সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে পিয়াংকী (সাবেক কথা – ২৫)

সাবেক কথা
পুরিন্দা
এক পুরিন্দা মেয়েমানুষ, ভিতর ভিতর একটি অন্ধকার একাদশতম শত্রু একবিংশতিতম প্রণয় একত্রিংশত্তম স্বেচ্ছাসেবা আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা সামান্যকিছু মহুয়াফুল। নাভিশঙ্খতে সাপের বিষ, নষ্ট করে দিচ্ছে যাতায়াতের পিছল পথ। ওই পথেই পড়ে আছে যত কালো ছাই এবং কালপুরুষের কোমরবন্ধনীর ক্ষুদ্রতম নক্ষত্রটি। মাড়িয়ে যাওয়া উচিত হবে কিনা ভাবতে ভাবতে দেয়াল থেকে খুলে পড়ছে আস্তরণ। ফোঁপড়া জন্ম আর এক একর ধানজমি, সঞ্চয় বলতে এর চেয়ে বেশি একবিন্দুও নয়।
এক পুরিন্দা ব্যাটাছেলে। ভিন্ন রাস্তা আর বিভিন্ন ঘর। ভিতরে পিঁপড়ে ঢুকে খুঁড়ে তুলছে মাটি, সেই মাটির মধ্যে লজ্জাবস্ত্র তুলসীতলা কিংবা গর্ভঋণ। ঋষি আসছেন,তার গায়ে মার্কণ্ডপুরাণের ঢেউ। অযুতসংখ্যক বসবাসের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে বৃত্তাকার কক্ষপথ। সপ্তর্ষিমণ্ডল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন যারা তাদের কোমরজলে এক বাঁশের খুঁটি। এরপর আস্তানা বাঁধা খুঁটির ওপর পরিযায়ী পাখি। মহাদেবের চরণে অর্পণ করা অশ্রুসিক্ত ত্রিপত্রে পরজন্মের অগ্রিম বনিবনা।
এক পুরিন্দা অসুখ, বিষাদগ্রন্থে কাকাতুয়ার আওয়াজ,মন্দিরের ঘন্টাধ্বনি আর পানকৌড়ির আগ্রাসী চোখ। রাজ্যের আগাছা সেই চোখের ভিতর। তাম্রপাত্রে সাদা ফুলের মতো ভাসমান যত কামনাবাসনা। খড়ের আঁটি থেকেই জন্ম নেওয়া বিকৃত আঙুল পেরোলেই মোক্ষলাভ। এখন সব বন্ধ।নির্দিষ্ট সময় অন্তর খুলে যাবে মিথোজীবী-দরজা। গন্তব্য থেকে ঠিক বিপরীতে উন্মাদ ঘুরে বেড়াবে ল্যাংটো আত্মা আর তার গা ছেঁকে ধরবে শয়ে শয়ে মাছি
এক পুরিন্দা জন্ম। পুঁটুলির ভিতর উঁকি দিচ্ছে জলরাশি বালিয়ারি ভ্রূণের অনুপাত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কতটা ওপরে এলে সূর্যাস্ত নেমে আসে বুকের পাঁজরে, তীব্র হয় মুহূর্তসুখ সেসব ইঙ্গিতে বোঝানো সম্ভব নয় বলেই পুরিন্দার মধ্যে একটি হরিণ শুয়ে আছে জড়সড় হয়ে। আরেকদিকে খোক্কশ অথবা গিরগিটি, ছাউনি জুড়ে মায়ামায়া খেলা। পাঞ্চজন্য শাঁখের পাশেই স্তোস্ত্রপাঠের আসর।
…কি এই পুরিন্দা? মহাযোগী পুরুষ নাকি অলৌকিক উর্বারুকমিব? কোথায় এর সূত্রপাত আর অন্তিমযাত্রা?
…এই প্রতিটি পুরিন্দায় ধীরে ধীরে জেগে উঠছে তুমি অন্তর্ভুক্ত পদ্মবন এবং কালান্তক মৃত্যুসুখী পায়রা, বাকি যা কিছু সবটাই ওঁ সমন্বিত ধ্যানযোগ
২৮ শে জ্যৈষ্ঠ
দুপুর ১:৪৪
ইছাপুরের বাড়ি