সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে পিয়াংকী (অন্তিম পর্ব)

স্টেশন থেকে সরাসরি
১১ই এপ্রিল ২০২২
২৫ শে চৈত্র ১৪২৮
সোমবার
কয়েক ঘটি জল আর নামমাত্র কয়েকটা সিঁড়ি। সবশুদ্ধ নেমে যাচ্ছে গর্ভের ভিতর, এ যেন এক অমোঘ আকর্ষণ, নিস্তার নেই। যমুনার ঢেউয়ে যেমন অলিখিত রাধামাধব ঠিক সেরকমই ওই জল আর সিঁড়ি।
ক্রমাগত বয়ে যাওয়া অথবা বেঁচে থাকার জন্য লড়াই… অবশ্যম্ভাবী দাগ। খসখসে, সাদাটে একটা আস্তরণ। পেঁয়াজের শল্কমোচন বললে যে দৃশ্য ভেসে ওঠে সেভাবেই পরতে পরতে তাঁর উদ্ভাস
দুপুরে ঘুঘুর ডাক আর বিকেলের লাল আকাশ। বিষণ্নতা অন্যান্য উপাদানের মতোই খুব সহজ সাবলীল। মাঠের ধুলো, রান্নায় ফোড়নের ঝাঁঝ, পথচলতি রিক্সাওয়ালার ভেজাগামছা, অথবা আটআনার বরফগোলা রঙীনজল… সবকিছুই বিষাদে রূপান্তরিত হয়ে প্রেমিকের মতো কুড়ে কুড়ে খায় ভেতরটুকু। দু’মুঠো চালচুলো বা এক আধটা ঘটিবাটি বিক্রি করে যা উপার্জন তাতে খিদে কেনা যায় অথচ এক আঁচল জুঁইফুল পেতে গেলে অপেক্ষা করতে হয় কয়েক জনম। আমি সাড়া শব্দ করি না, চুপচাপ বসে থাকি,কেউ এগিয়ে এলে বলি, “আমার নামে দু’ছটাক জল বরাদ্দ হোক আগে”।
গত বছর বাংলা নববর্ষের প্রথম সপ্তাহে শুরু করেছিলাম এই মুক্তগদ্যের সিরিজ ” স্টেশন থেকে সরাসরি “। আজ অন্তিম পর্ব লিখতে বসে ভিজে যাচ্ছে চোখ,মায়া এমনই এক বন্ধন।অক্ষরের ওপর মায়া কলমের ওপর মায়া৷ ধন্যবাদ টেকটাচটক
টেকটাচটক এর সাথে যুক্ত সকলকে আগামী বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা শুভকামনা