সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে পিয়াংকী (সাবেক কথা – ১৩)

সাবেক কথা
মাস্টারমশাই
ভোর হবার নির্ধারিত একটি আঁধার আছে, একটা গন্ধ আছে,একটানা শব্দ আছে। ভোর একটা হাঁসের মতো, সাদা সহজ। ভোরের পর সকাল আসে,সকালের পর দুপুর তারপর বিকেল সন্ধ্যা রাত… ক্রমশ। এভাবেই দিন শেষ হয় আর আমাদের বয়স বাড়ে। চলাচল ছেড়ে কেউ কোনোদিন চলে যেতে পারি না বরং একটু একটু করে পরে নিই পোশাক। ভোরের সিঁড়িভাঙা অংক দুপুরের নির্জন ইতিহাস সন্ধের শরীরে জীবনবিজ্ঞান আর রাতের আকাশে অংক শিখিয়েছেন যিনি তাঁদের নামে মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনা করি সামান্যতম, আয়ু আরোগ্য।
আলোআঁধার পেরিয়ে ওঁরা আসেন প্রতিমুহূর্তে। আলপথ নিয়ে আসেন সাথে আলপনাও। আমরা খড়িমাটি ভেজাই, পায়ে জল দিই,শুকনো গামছায় মুছে দিই যাবতীয় পথের ধুলো। মাস্টারমশাই তাকান। হৈমন্তী-বালক যেমনভাবে তাকিয়ে থাকে আকাশী গ্রহের দিকে মিথুনরাশির বালিকা যেভাবে দেখে জলের ছায়া ঠিক সেভাবে শূন্যতার নড়বড়ে সাঁকো পেরিয়ে ওঁরা আসেন। এক কাপ কড়া লিকারের চা আর সাথে দু’পয়সার ম্যাপল বিস্কুটে জড়িয়ে যায় ওঁদের দোহারা চেহারা এবং ঘামে ভেজা সুতির জামা।
ক্রমিক সংখ্যা ডেকে চড়, ঋতুবদলের মন, আস্কারা সমেত চিলচাপাটি, শ্রেণীকক্ষেরর ঘুম-ভাঙা চোখ… ওঁরা দাঁড়িয়ে থাকেন পেছনে, স্ট্যাচু অফ লিবার্টির চ্যাপ্টা কোন ঘেঁষে। এই কোণে কোনো ভরাট সূর্যোদয় নেই,নেই কোনো সূর্যাস্তের অনুষঙ্গে পাখির কিচিরমিচির তবু রাতের হ্যারিকেন থেকে বেড়িয়ে খোলামাঠের হাহাকারে আর অসম্ভব কান্নার আদিমতম জলে অবলীলায় এদের প্রশ্রয় আছে, আছে শূন্য খাঁচা।
প্রকৃতির নিথর যাতায়াত মেনে উত্তরায়ণ সম্পূর্ণ হলে দক্ষিণায়ন আসে, রাত গেলে সকাল কিন্তু কেন জানি না কোনোকিছুর বিনিময়েই ওপার থেকে হাঁকডাক আসে না মাস্টারমশাইয়ের।
আজ শূন্যতার অভাব। আজ গর্ত খোঁড়ার মানুষের অভাব।
ফিরে আসুন মাস্টারমশাই। আপনাদের ভীষণ দরকার…
১৯ শে ভাদ্র
দুপুর ১২ঃ০০
সোদপুরগামী বাসে, বাঁ-হাতের তিন নম্বর সিট