সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে পিয়াংকী (সাবেক কথা – ১০)

সাবেক কথা
লণ্ঠন
বহু দূর থেকে হেঁটে আসছেন তিনি,গায়ের ছাই রঙের শালে দু’চারটে মাছি, অনবরত ভনভন করতে করতে চক্কর দিচ্ছে মাথার ওপর দিয়ে, কানের পাশ দিয়ে। বিরক্তিকর এই শব্দে উল্লিখিত মানুষটার কোনো হেলদোল নেই, নেই কোনো অস্বস্তিও। হাতে লণ্ঠন কোমরে চাবির গোছা পায়ের গোড়ালিতে বাঁধা শতছিন্ন লাল শালু’র এক গজ ছেঁড়া ঝুল্লি টুকরো। লণ্ঠনের ভেতর তুমি সংক্রান্ত বিষয়-আশয় আর কিছু খুচরো মুদ্রা। বহাল তবিয়তে রাজত্ব সামলে তিনি চলেছেন নির্ধারিত পথে।
হাঁটাহাঁটি থেকে একটু দূরে যেখানে মানুষ বিশ্রাম নেয়, যেখানে পাখি ডাকে একাকী দুপুরে, যেখানে নিশ্চিন্তে গাছের তলায় বসে গুনে দেখা যায় বিগতভুল… সেখানেও ঐ দীর্ঘাঙ্গী,হাতে একটা লণ্ঠন, বুকের ভিতর থেকে ঠেলে যেন বেরোতে চাইছে জমাট অন্ধকার। এই অন্ধত্ব কি একটি ভয়াবহ উন্মাদনা একটি অপ্রত্যাশিত প্রত্যাঘাত? তাঁর চিৎ হয়ে শুয়ে থাকা বুক থেকে কিভাবে যেন গড়িয়ে পড়ছে শোকসন্তপ্ত জলের ধারা।
শুনেছি, আগুন আর জল নাকি পরস্পরের শত্রু। এ ও শুনেছি আগুন নাকি ঘি-এর সাথে থাকলে গলে যায় তরলের মতো। অথবা এই লণ্ঠন এই আগুন এই শোক এই গতজন্মভুল… এসব কি নদী হয়ে বয়ে চলে যুগ যুগান্তর?
অভাগী সন্ধেতে প্রদীপ জ্বালিয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় সে। অমাবস্যার ভিতর অভাবের নোনা ধরা সংসার। সেখানে সব চলাচলই খুব পিছল।যে কোনো মুহূর্তে পড়ে যাবার ভয়। ঘরের চালে পেঁচার চোখ,কেমন গা ছমছমে অন্ধবিন্দু।
কিন্তু কীই আশ্চর্য দূর থেকে ক্রমশ এগিয়ে আসছে সে। পিছল পথেও হড়কে যাচ্ছে না তাঁর পা,বরং রাতের কামিনী ঝরে পড়ছে থরে থরে। সাজানো বাগানের ভেতর দিয়ে ক্রমশ তিনি এগিয়ে আসছেন আমার দিকে,এক হাতে লণ্ঠন অন্য হাতে চাবির গোছা
আগুনে পুড়িয়ে ফেলা চাবির কোন সংখ্যায় খুলে যাবে নোঙর?
১৫ ই শ্রাবণ
দুপুর ৩ঃ৩৫
ইছাপুর