T3 || কোজাগরী || বিশেষ সংখ্যায় পিয়াংকী

কোজাগরী

কার্ত্তিকস্য প্রথম দিবস। তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালিয়ে গাছের নীচে নদী দেখতে চলে গেছেন তিনি।এদিকে ঘরময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে ধান।দুধ উথলে ভেসে যাচ্ছে উনুন। চৌকাঠ থেকে দুয়ার অব্ধি যতটা দূরত্ব ততটাই শোক লিখে দিয়েছে আস্তানার উত্তরমুখ। আলো নিভিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার আগে একবার চোখ বন্ধ করে দেখে নাও যাবতীয় অভাব আর বৃষ্টির অভিমুখ। চাঁদ উঠেছে। ভরা পূর্ণিমা লেগে গেছে মাঠেঘাটে শিশিরে স্নানে।

এই লেগে পড়া শুনলেই আমার বরাবর শাশুড়ী বউয়ের ঝগড়া মনে পড়ে যায়। এরা একটা জাতির দক্ষিণ কোণ। ইঁদুরের গর্তের মত হাঁ মুখ।সারাদিন চুলচেরা আর চুল-ছেঁড়া। অথচ আমি দেখেছি পিছনের পাড়ায় যে শাশুড়ী বউ পেতলের ঘটিবাটি ছুঁড়ে হরিরলুট দিয়ে দিতেন ফুলছাপ মিনু শাড়ি আর জর্জেট ব্লাউজ, আজ সন্ধেবেলা থেকে তারাই ঘুমনামা দু’চোখের পাতায় সদ্য গজানো দুর্বাঘাস।একে অপরের কাঁধে ঢেলে দিয়েছেন সমস্ত উপকরণ।শান্ত দীঘিতে গা ধুয়ে এসে ধূপের গন্ধ ঠেকিয়ে নিচ্ছেন আধভেজা চামড়ায়।

প্রসঙ্গত কাঁধের কথা যখন উঠল তখন বলে রাখা ভাল যে প্রতিটি নির্দিষ্ট তারিখ ক্ষণ তিথি নক্ষত্র অনুযায়ী মানুষ আর দেবদেবীরা পাল্লা দিয়ে কমেন বাড়েন।বেড়ে যায় তাদের কাঁধের সংকোচন প্রসারণের মাপ।এই মাপের সামান্যতম বিচ্যুতি অথবা হেরফের হলেই আমি ডুব দিই,মিইয়ে যেতে দেখতে আমার কীইই যে ভীষণ ভালো লাগে!

শাপলাফুল অথবা কচুরিপানা। এসব তুলতে তুলতে তখন তার পা ভেঙে আসছে, পেঁচিয়ে যাচ্ছে ভিজে কাপড়। ‘তার’। এই তার মানে কার? সে কে?পরিচয় কি তার? বাঁশিতে শেষ ফুঁটুকু দেবার আগে সে সঞ্চয় করে নিচ্ছে এযাবৎ কালের সমস্ত দাগ

দাগের ব্যাপারে আমি খুঁতখুঁতে খুব। দেবীর আলপনা হোক অথবা দেয়ালের আড়ালে খড়িমাটির গণিত, অমাবস্যা হোক বা পূর্ণিমা, খিচুড়ি পাঁচভাজা লাবড়া চাটনি পায়েস অথবা নাড়ু খই… নির্জলা উপবাসের মধ্যে লেগে থাকা একমুঠ কুয়াশাই আমার আরাধনা

কার্ত্তিকস্য দ্বিতীয় দিন। বাতাসে কাশফুল বিষাদ। পূর্ণিমার যমুনা ভাটিয়ালি গায়।ঠাকুরঘরে বাজে
” এসো মা লক্ষ্মী বোসো ঘরে ” এরা এলেই পেঁচা আসে,নিয়ে আসে তার মালকিনকেও।

ধুনোফল আর কুন্দফুলে কোজাগরী সাজেন।পদ্মপাতায় জল টলমল করে, ধোঁয়া ধোঁয়া গন্ধ আর ভোগপ্রসাদে লক্ষ্মী হয়ে ওঠেন জমায়েতের সমস্ত মেয়েমানুষ

লক্ষ্মীস্তং সর্বদেবানাং যথাসম্ভব নিত্যশ
স্থিরা ভব তথা দেবী মম জন্মানি জন্মানি
বন্দে বিষ্ণুপ্রিয়াং দেবীং দারিদ্র্য দুঃখ নাশিনিং
ক্ষিরোদপুত্রিং কেশবকান্তাং বিষ্ণুবক্ষ বিলাসিনিং

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।