T3 কবিতায় পার্বণে ওবায়েদ আকাশ (গুচ্ছ)

১| দীর্ঘ প্রশস্ত বিরহলগন

এই জীবনে কত কিছুই দেখা হয়ে গেল

ফুটবলের মৌসুম শেষ হতে না হতেই যেমন
ক্রিকেটের মৌসুম শুরু হয়ে যায়
তেমনি মান-অভিমান শেষ হতে না হতেই
বিরহ লগন শুরু হয়ে গেল

এইসব দুবির্নীত ভাঙাগড়ার খেলায় টাল সামলাতে না পেরে
বিরহ লগ্নেই থেকে যাবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিÑ

একটি চমৎকার আবাসন এবং পরিবেশ নিয়ে ভাবছি
দেখছি, প্রতিটি পাতা ও ফলের শরীরে
নিশ্চিন্ত বিরহলগন মলিন ও কালশিটে হয়ে ঝুলে ঝুলে আছে

গাছেদের গায়ে কালো মেঘেদের দৌড়ঝাপ
টিনের চালে কার্তিকের ফসলের মাঠে
দীর্ঘ প্রশস্ত সব বিরহভাঙন নদীদের মতো বয়ে চলে গেছে

আর সব কিছুই কেমন দাপুটে গ্রীষ্মের
খা খা রোদ্দুরের ভেতর বটবৃক্ষের ছায়ার আদলে
সংসারের এমাথা ওমাথা আগলে রেখেছে

অথচ যারা মিলনের তীব্রতা নিয়ে একই গাঁয়ে
বসবাস শুরু করেছিলোÑ তাদের উন্মুক্ত গৃহে পালাক্রমিক
শীত ও বসন্ত ঋতু অনায়াসে দৌড়ঝাপ করে বেশ তো সুস্বাস্থ্যে আছে

সেই জন্মলগ্ন থেকেই মায়ের হাতে বোনা
শীতের কাঁথা বিছিয়ে ঘুমাতে অভ্যস্ত আমি

২| প্রলোভন

উপর থেকে লাফ দিয়ে তোমার উপর পড়েছি
তুমি আমাকে আঁকতে আঁকতে একজন বর্ষাকাল বানিয়ে দিয়েছ
আমি সেখান থেকে নামতে নামতে
বকফুলে ছাওয়া এক পড়ন্ত নদীতে এসে পড়েছি
আমি উপর থেকে লাফ দিয়ে তোমার উপর পড়েছি

আমি তোমাকে দুদণ্ড দাঁড়াতে বলে
যখন দুহাতে শৈশবের টিকিট নিয়ে ফিরছিÑ
তুমি আমাকে কালোবাজারিতে নামমাত্র মূল্যে
পৃথিবীটা ক্রয়ের প্রস্তাব দিতেই
চারদিকে কেমন কালো রোদ নেমে এলো

আর ততই আমি তামাটে বাতাসে
তালগাছের মতো মাথা উঁচু-করা শৈশবের টিকিট আঁকড়ে ধরেছি

অগত্যা তুমি আমাকে দাপুটে ক্ষমতায়
অনন্ত নক্ষত্র ভ্রমণের প্রস্তাব দিতেই
ঝাঁ ঝাঁ বুলেটের শেষে যুদ্ধোত্তর পৃথিবীর
সুমসাম নিস্তব্ধতা নেমে এল

আর ততই আমি বিপন্ন পৃথিবীর রক্তাক্ত জমিনে
রণক্লান্ত দুমড়ানো মুচড়ানো কৈশোরের টিকিট আঁকড়ে ধরেছি

আর একবারমাত্র শর্তহীন ভালোবাসার প্রস্তাব দিতেই
অক্লান্ত শৈশবে সবুজ ধানগাছ হয়ে পাশাপাশি হাত ধরে হাঁটে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।