গদ্য কবিতায় নন্দিনী সেনগুপ্ত

ধরিত্রী দিবস
হাত ফস্কে সত্যি সত্যিই বেরিয়ে গেছে আগুনপোষা তির। অরণ্য ছোট হয়ে আসছে । দ্রুত খুঁজে নিতে হবে নিজস্ব গাছ এবং ওষধিছায়া। নির্ঝরিণী নদীটিকে যারা বাঁকে বাঁকে বেঁধে রেখেছে, অভিশাপ শুধু কি তাদের গায়েই লেগেছে? পুড়ে যাচ্ছে মেঘহৃদয়। তুমি বৃষ্টির কথা জিহ্বাগ্রে নিয়ে আসবে কোন সাহসে? যারা বৃষ্টির বীজ বোনে বহু সাধনায় মরুভূমির মাঝে, তারাও প্লাবন চায় না। আদরমাখা ফসলসুখী বৃষ্টির সাধনা করতে গিয়ে তুমিও মনের ভুলে প্লাবন ডেকে এনো না যেন। আপাতত আর সংহত করতে পারবে না তির। শহর বেড়ে চলছে আড়ে বহরে। গিলে নিচ্ছে অরণ্য। তুমি শহরে গাছ লাগাবে; একথা শুনে অরণ্যে কিছু গাছ নিজেদের মধ্যে রঙ্গরসিকতায় মেতে উঠল। শিকড়ে শিকড়ে কত বন্ধুত্ব ছড়ায় অরণ্যে, সে খবর আমরা জানিই না। গাছের জন্য গাছ লাগাও তোমরা? নাকি মানুষের জন্য? কত প্রশ্ন তাদের… কী করে বলি যে আসলে মানুষ ভুল সংশোধন করতেই শেখেনি। এক ভুল থেকে আরেক ভুলের উৎসবে ছুটে বেড়ায় অহরহ। তাছাড়া কোনটা ভুল, কোনটা অন্যায়, এই বোধ কে দেবে? পৃথিবী ঘিরে ঘুরে চলেছে আগুনপোষা তির… কেউ জানে না কাকে আঘাত করবে।