সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে নীলম সামন্ত (পর্ব – ১৩)

ব্রহ্মমুখী সূর্য ও রেবতী রেবতী ঠোঁট
মেঘ বর্ণের সমুদ্র থেকে তুলে নিচ্ছে বিবর্তনের মাছ৷ খেপে খেপে জেলেরা বৃষ্টির পূর্বাভাস বুঝে রেনকোট গায়ে জল ভাঙছে। রাগ মেঘ-মল্লার। তানসেন জানতেন না মাছমুখী জীবনগুলো মল্লার ছাড়াই মাথায় তুলে নেয় আকাশভাঙা ঝুরো স্ফটিকের ঢল। তিনি এও জানতেন না পা ভিজে যাবার পর জল উঠে আসে উরু পেরিয়ে কোমর অবধি। এসবে কোন দ্বিচারিতা নেই৷ তবু রাত বাড়লে অনেকদিন ঘুম আসে না৷ হাইওয়ের শব্দে যোগ হয় নাছোড় পরজন্ম।
আপাতত দাঁড়িয়ে আছি, বালির স্তুপের ওপর৷ ওড়না বাঁধা বাদামের খোলায় ঢুকে আছে কালো রঙের দ্রাক্ষাফল৷ এখানে কেনাবেচা হয় না৷ এক্সিবিশনেরও ব্যবস্থা নেই৷ শুধু মাত্র একজন ইতিহাসবিদের প্রবেশ অনুমতি। যে জানে আত্মায় মিশে থাকা জন্মান্তরের রৈখিক নিয়ম – যার প্রতিফলন বা প্রতিসরণে কোন দুরত্ব নেই৷ অনুমতিপত্রে ঝিনুক ছাপ, আর শেষের দিকে স্পষ্ট চার আঙুল।
এই সমস্ত ধার্য্য হবার পর আমার ফিরে যেতে ইচ্ছে করে সেই দুপুরে যেখানে মদ্যপ দুটো শরীর নিজেদের নক্ষত্র সাজিয়ে ঢুকে যাচ্ছে এক আত্মায়৷ দু হাত বাড়িয়ে চেয়ে নিই অধিকারের নিশ্চিত অন্ধত্ব। উন্মাদনায় আছাড় খায় মথুরাগত ব্রহ্মমুখ। অথচ আকাঙ্ক্ষায় জমা হয়েছে ধুলো। দুখী মুখ নিয়ে বিপরীত লিঙ্গের মানুষরা একে অপরকে ছুঁড়ে দেয় অরণ্যে রোদনরত রাত৷
ফিরে যাই। যেতে যেতে জামার ওপর থেকেই ছুঁয়ে দেখি প্রাচীন নাভিকূপে মায়ের শরীর৷ বিস্মৃতি থেকে খুঁজে বার করি ধানী রঙের ধ্রুপদীনন্দন৷ জান তো বিস্মৃতি হলো মৃত্যুর পূর্ববর্তী মরণ। এখানে ঋষিতুল্য কোন আশির্বাদ বা অভিশাপ নেই। তাই ঘোড়া নিয়ে খেলো। আড়াই প্যাঁচে সূর্য জাগিয়ে তোল। তারপর সেই বহু প্রতিক্ষার নৌকা। সমুদ্রে উদ্ধত ঢেউ জেগে উঠলে আর ফিরব না; এগিয়ে যাবো ঠোঁটের উদ্দেশ্যে। বন্যা এলে ভিজিয়ে দেব আলো ভর্তি নীল রুমাল৷
তুমি তখনও যুবককে বালক বলে লিখে নাও ঐতিহাসিক চরিত্রের ভাস্কর্য। যেখানে উজ্জ্বল দ্রাক্ষাকুঞ্জের লতানো যোনীপথ। আর আমি কড়িবরগার দিকে মুখ রেখে পাহাড় সমুদ্র মেঘ ও বন্ধঘরের তফাৎ খুঁজব। তারপর নয় সূর্যমুখী ব্লাউজের হুক খুলবে, প্রতিটি ব্রাহ্মমুহূর্তে হৃৎপিণ্ড থেকে বেড়ে উঠবে ছায়াদেহের গাছগাছালী৷
.
.
.
তবে কী শরীর দুটোর এক আত্মায় রেবতী জন্ম নিল?