সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে নীলম সামন্ত (পর্ব – ২৬)

ব্রহ্মমুখী সূর্য ও রেবতী রেবতী ঠোঁট
“যাচ্ছো তুমি হেসে হেসে
কাঁদতে হবে অবশেষে
আর কলসী তোমার যাবে ভেসে
ওই লাগলে জলের ঢেউ
লাগলে প্রেমের ঢেউ”
গানটা শুনছিলাম হঠাৎ মনে পড়ল আজ রবিবার, দিন ফুরিয়ে গেছে এদিকে রাজশ্রীদির লেখাটা বাকি। প্রায় তেইশটা পর্ব ধরে জীবন প্রেম মাঝরাত এই সব লিখে গেছি আর দাঁড়িয়ে দেখেছি আকাশগঙ্গায় কারা যেন বাজার বসিয়েছে। সেখানে আলু পেঁয়াজের পাশাপাশি মাথার খুলি ও শিরদাঁড়াও বিকোচ্ছে। ব্রহ্মের নামে খাজনা তলা তুলতে এসে চাট্টি গালমন্দ করছে অপ্রেমিক।
এই এক হ্যালুসিনেশন রোগ। কখন যে কি হয় বুঝে ওঠার আগেই ঝমঝম করে চুল ওঠে নয়তো পাতা খসে, আরও অনেক কিছুই ঘটে গোপনে। কারণ এই ব্রহ্মের উল্লাস সে আত্মার যাপন। সেখানে হঠাৎ কান্না এলে বুঝে উঠতে পারিনি আমি ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, আর কোথায়ই বা গাছের ছায়া। একাকিত্ব ভীষণ রামধনু। যে জলের ধারে হৃৎপিণ্ড ভাসিয়ে দিয়েছিলাম সেখানে ঢেউ ছিল না। অথচ ভয় ছিল আনন্দ ছিল অজানার দিকে তাকিয়ে দেখেছি আমার মতো কত নীলই মায়াহীন পড়ে আছে। সেখানেও কি কেউ কলসি ডুবিয়ে জল তোলে? তবে তার জলের সাথে কে ফিরে যায়? কে মিশে যায় কান্নায়, লবনে, সুখে, পরমে?
ওগো, তুমি শুনতে পাচ্ছ? এই ব্রহ্মলোকে আমরা একসাথে যত পথ পার করেছি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকারে একপেগ সূর্য ভাগ করে পান করব সাথে বাররর্ন বিস্কুট। আমাদের আরও অনেক পথ যাওয়া বাকি। এক সাথে। সাত, চোদ্দ, একুশ, আঠাশ, পঁয়ত্রিশ… সূর্যমুখী ফোটাতে ফোটাতে। কোথাও তখন কোন রঙ থাকবে না। দাঁতের রোগে আক্রান্ত হবার কারণে আত্মসমর্পণ করবে পেয়ারা পাতার ভিড়ে৷ কি গো? ছেড়ে দেবে এই হাত? জন্মান্তরের নুপুর নিয়ে আর কথা বাড়াবে না? খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন? এসবে তোমার বিশ্বাস কবেই উঠে গেছে সে কি আর জানিনা ভেবেছ? তবে এসো, নিদেন পক্ষে একবাটি পায়েস দুজনায় ভাগাভাগি করে খাই, প্রতিবারের মতো আমার একটু বেশি সাথে আলু-থালু সারল্য।
চলো অনেক তো হল এবার শেষের কথা বলি। সামান্য আয়োজন। চন্দনকাঠের কন্ঠস্বর, মন্ত্রপাঠ, বড় বড় কলকে, জবা আর হলুদ প্রজাপতি।
এভাবে আরও অনেক লেখা যায়। যেখানে তুমিই ব্রহ্ম৷ তুমিই আলো। তুমিই যাপনের উচ্চতা।