সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে নীলম সামন্ত (পর্ব – ১৭)

ব্রহ্মমুখী সূর্য ও রেবতী রেবতী ঠোঁট 

সমুদ্রের দিকে পেছন করলে দুটো গাঁদাফুলের নিরিখে আমি গাছ হয়ে উঠি। গুল্ম। আলোর ফুলকি উপেক্ষা করে প্রাচীন চাকা সমেত ফিরে যাচ্ছি আদিমে। পৃথিবীর প্রথম স্টেশন৷ যেখানে মানুষ ছিল না৷ গাছ কিংবা ঘাস থাকলেও তার অধিকার অথবা বেঁচে থাকায় গনতান্ত্রিক জলবায়ু প্রাণ দখল করে নেয়নি৷ যা ঈশ্বরের অরাজনৈতিক পরিকল্পনা।

…ঈশ্বর আমাদের তৃতীয় হাত, শক্তিশালীও বটে৷ শুধুমাত্র দূর্বলতা ঢাকতে যাকে সহজে শিখণ্ডী হিসেবে কুশপুত্তলিকার পাশে দাঁড় করিয়ে দেওয়া যায়৷ এগুলো যদি ভিত্তিহীন কথা হয়েও থাকে তাও দিনের শেষে আমরা ঈশ্বরমুখী। এক অদৃশ্য ভাবমূর্তি যা নির্বিবাদে হাসি মুখে জেনে নেয় যাবতীয় আবদার আহ্লাদ থেকে রাগ অভিমান অভিযোগ৷

বিশ্বাসে মিলায়ে বস্তু তর্কে বহুদূর৷ যখনই কোন প্রথা বা অলীক কিছুর বিরুদ্ধে প্রশ্ন জেগেছে এই কটা শব্দেই থামিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ যেন প্রশ্ন করলে তর্ক করলে গাঁদা ফুলের অসংখ্য পাপড়ি এলোমেলো হয়ে যাবে৷ তার থেকে সুন্দর মুর্তিগুলো সাজিয়ে গুছিয়ে নৈবেদ্য নিবেদন করা সুখের৷ এভাবেই একদিন সমস্ত জাগতিকজ্ঞানের ধ্যান-ধারণার ভেতর প্রতি মুহুর্তে খুঁজে নিই ঈশ্বর ও তাঁর আলোমুখী আলিঙ্গন। যা আত্মার শক্তি, বিবেকের আলো, মস্তিস্কের স্থিরতা৷

ঈশ্বর আর আত্মা এক বস্তু না৷ সমুদ্রে ধারে হাঁটতে হাঁটতে এই কথাগুলো ভাবছিলাম। পায়ের ফাঁক দিয়ে সরে সরে যাচ্ছিল অজস্র কাঁকড়া। সমুদ্রের নুন মেখে তারা সাদা৷ ঢেউ সামলানোর জন্য বড় বড় বাহু। জীবন কত সহজ যেখানে বেঁচে থাকাই একমাত্র আদর্শ৷ আর উদ্দেশ্য খাদ্য সংগ্রহ, বালির নিচে ঢুকে মানে কোন বিপদহীন ঘেরাটোপে ঢুকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা৷ জীবন তো তাই। এতো প্রেম ভালোবাসা কাছে আসা অথচ নির্ভরশীলতা একমাত্র খাদ্য আর বাসস্থান৷ ইতিহাস দেখলে স্পষ্ট হয়।

এখনও সমুদ্রের দিকে পিছন ফিরে বসে। হয়তো এভাবেই হঠাৎ ভুলে যাবো আমার কোন দিকে মুখ করে হাঁটা উচিত। ভুলে যাবো মস্তিকের ভেতরেই অনেক নদী একজোট হয়ে তৈরি করেছে গভীর সমুদ্র যেখানে জেলে আর মাছ দুইই জীবনমুখী।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।