সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে নীলম সামন্ত (পর্ব – ১০)

ব্রহ্মমুখী সূর্য ও রেবতী রেবতী ঠোঁট 

এখন মধ্যরাত ঘুমনোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘুমোতে পারিনি বলে জানালা দিয়ে ফিরে যাচ্ছি৷ কোথাও যাবার নেই তাও যাচ্ছি। আত্মা আমার ছায়া থেকে সরে এসে সামনে দাঁড়িয়ে। আমার সামনে আমিই বর্তমান। আত্মা চাইছে প্রশ্ন উত্তরের লড়াই। আমি বলছি আমার দিকের প্রতিটা বোড়ে আহত। রুক দুটোর পাল ভেঙেছে, নাইট অকারণ দিশেহারা, বিশপের চোখে ম্যাজিশিয়ানের মন ভোলানো আব্রাকাডাব্রা। একা মন্ত্রী নিজেকে খুঁড়ে কবরস্থান বানিয়ে চলেছে৷

এতোক্ষণ আমি আমার আত্মা সমেত সামনের বাড়িতে ঝুঁকে দেখার চেষ্টা করছি ঘড়িতে কটা বাজে৷ এ কেমন প্রয়াস? অসম্ভব খিদে পেটে মানুষে পাগলামি করে জানতাম আজ দেখছি। আজকাল আর খেতে ইচ্ছে করে না৷ খাবারের দিকে তাকালে মনে হয় কোথাও ফুল ফুটছে কোথাও ঝরে যাচ্ছে। আচ্ছা ঝরে যায় কেন? ঝরে যেতে হয় বলে? একদিন আমি আমার যাবতীয় অহং ঝরে যাবে৷ সত্যিই কি যাবে? অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে থাকব? যে মানুষগুলো ভালোবাসি ভালোবাসি বলে ভীনগ্রহ থেকে এসে জীবনে নাম লেখায় তারাও বুঝি ফিরে যাবে। ফিরেও গেছে কেউ কেউ। শুধু যাবার সময় ফেলে গেছে দোষারোপের ভাঙা ফুলদানি।

হ্যাঁ গো তুমিও ফেলে দেবে? এই যে আত্মিক মিলন, এক সাথে সূর্যের মুখ দেখি, এতো ফুল এনে দাও সব কি কালের ধাঁধাঁ? তবে যে , ভুবঃ স্বঃ জন মহঃ তপঃ সত্য জুড়ে আমাদের বাস তার কি হবে?

আবেগে ভেসে যাচ্ছি৷ ভুলে যাচ্ছি দিন ফুরোক বা না ফুরোক আমরা একা। অনন্তের একাকী লাট খাওয়া ঘুড়ি। থোকা থোকা তারার দিকে তাকিয়ে অলৌকিক চুক্তি করে বেঁচে থাকি বছরের পর বছর। এখানে বিক্রিবাটা বা দেওয়া নেওয়া হয়না। শুধু ঠোঁটের আকারে পড়ে থাকে নারী দেহের লাশকাটা ঘর।

নাঃ এই আমি কেউ না। আমি ফিরে ফিরে আসা জন্মান্তরের পর্বতশিখর। মনের ওপর ফুলের বাগান নেই। আত্মা প্রথম জন্মে শিখিয়েছে ক্ষিপ্র গতিতে ছুটে যেতে। মায়া মমতা আগুনে গচ্ছিত রেখে গতির পূজারি হতে। জন্মদাত্রী মাও বলেন চরইবেতি চরইবেতি। আমি তবে কে? কোন দিকে ধাবিত হচ্ছি?

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।