কবিতায় স্বর্ণযুগে নিবিড় সাহা (গুচ্ছ কবিতা)

১. নিষ্ফলা
অচেনা, অজানা কোনো এক জায়গায়
এবার আমাদের যাওয়ার কথা হলো l
সেখানে নাম না জানা কোনো নদী থাকবে,
কিংবা অন্যরকম আকৃতির পাহাড়,
সমুদ্রের রঙ হবে ভিন্ন, অচেনা সৈকত
অথবা হারিয়ে যাওয়ার জন্য অচেনা অরণ্য পথ l
আমরা সহমত হলাম, ঠিক হলো
সেই নদী, পাহাড়, সমুদ্র আর অরণ্যের
নতুন করে না হয় কোনো নাম দেবো আমরা l
অনেক ছবি তুলে রাখবো ভালোলাগা মুহূর্তের
যা দেখে অন্যরা উৎসাহিত হবে, অথবা
ঈর্ষার কালি লাগাবে আমাদের গায় l
ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টানোর মাঝে
খেয়াল ই থাকে না ঘড়ির অ্যালার্মের কথা,
সে ঠিক নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম ভাঙিয়ে দেয়, তাই
কতবার কত কিছু এভাবে অদেখাই থেকে যায় l
২. অনাবাদি
কয়েক মুঠো, মেঘের মতো বিষন্নতা দাও l
বৃষ্টির বড় প্রয়োজন আজ,
কোথাও কোথাও মাটি শুকিয়েছে পাথরের মতো l
সেখানে চুম্বন অথবা পেলব স্পর্শে ও
আর, ফসল ফলে না l
যাদের দিয়েছো কথা, কথায় ভরে না পেট
শস্য দানাও তো রেখে যেতে হবে,
আর কত বিজ্ঞাপন দেবে অনাবাদি জমির
কত বর্ণাঢ্য মিছিল হবে তার বুকে l
এবার মেঘের মতো বিষন্নতা দাও
বৃষ্টির বড় প্রয়োজন আজ
ফসল ফলাতে হবে পাথুরে মাটিতে l
৩. নোঙ্গর
সাগর বড় প্রিয়
জানি, সাগর বড় প্রিয়
এবার যদি পাও
তাকে আপন কোরে নিও
নদী, আমি নদী
আমার হাঁটু জল
ভেজা পায়ের পাতাই ছিলো
সব টুকু সম্বল
সাগর ভীষণ প্রিয়
জানি, সাগর ভীষণ প্রিয়
রাংতা মোড়া ঢেউয়ে
আবার গা ভিজিয়ে নিও
নদী, আমি নদী
আমার কূলের কাছে
তোমার দেওয়া দুঃখ গুলোই
নোঙ্গর করা আছে।