সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে নীলম সামন্ত (পর্ব – ৫)

ব্রহ্মমুখী সূর্য ও রেবতী রেবতী ঠোঁট
মহাজাগতিক নীতি কিংবা সৎ চিৎ আনন্দ যাই হোক না কেন বেদ উপনিষদের নিরাকার দৃশ্যে হাঁটতে হাঁটতে বুঝেছি আমার ভেতর যতখানি ব্রহ্ম ততখানি উদ্ভিদ আলোড়ন। তেত্রিশ দেবতা অতিরঞ্জিত হয়ে তেত্রিশকোটি হলো। এই হয়তো আড়ম্বরের ঘনঘটা। অথচ জীবন যাযাবরি আদিখ্যেতা হলেও ব্রহ্ম ঘনিষ্ঠ হয়ে জাগিয়ে রাখা একটি মাত্র সূর্যমুখী। এখানে পদ্ম বললেই বোধহয় তাল ও মাত্রা মিলে যেত৷ কিন্তু সূর্যমুখীর পাপড়িতে লেগে আছে আত্মা ও পরমের অপ্রকাশিত পরাবিদ্যা৷
একটা গোটা দিন কর্মহীন ব্যস্ততাহীন শুয়ে থেকে আমি আত্মার দর্শন পাইনি। মনঃসংযোগ যেমনই হোক পদ্মাসনে বসে বার বার চোখ বুজে ঘুম নেমে এসেছে। চোখের ভেতর আগুন৷ যা সারা শরীরেই ছড়িয়ে আছে নিজের অধিকারে৷ আত্মার সাথে কোন লেনদেন নেই। যেন ছুটির দিনে সকলেই বরফ ঢাকা রাস্তায় চলে যাচ্ছে হারানো গন্তব্যের দিকে। সেখানে আলাদা করে চার দেওয়াল সহ ঘর নেই কিন্তু দরজা আছে৷ জপ সমেত চোদ্দমুখী রূদ্রাক্ষের বিরল উপমা। সেজে উঠছে চৌকাঠ৷ এক একটা দরজা পেরোতেই ব্রহ্ম হৃৎপিণ্ডের ভেতর চন্দনের বাসা গড়ে। আমাকে অক্লান্তির ঠোঁট ছুঁইয়ে দেখায় এগোবার পথ৷
ব্রহ্ম কোন তারা বা নক্ষত্র নয়৷ আদিম সত্যের মতো পরম। যার রঙ জানতে নিজেকে নগ্ন করেছি বহুবার৷ নদীকেন্দ্রিক সভ্যতা৷ কত যে ফুল ভেসে যায়, প্রদীপ৷ হিসেব করলে ধুনোর গন্ধে নিজেকে দাঁড় করায় হবন। পরম ও আনন্দ হাত ধরাধরি করে ভুলে যায় মিছিলে অতিমাত্রার উপোস। আমি কি বেশি ভাবছি?
যুক্তরাষ্ট্রে দেখেছি অবহেলায় অবলীলায় অখ্যাত নদীর পাশে অতিরিক্ত আগাছার ভেতর সূর্যমুখী নিজের অহংকার সমেত দাঁড়িয়ে আছে, তারা কারোর জায়গা দখল করে না৷ এটাই বৈশিষ্ট্য। ভিড়ের মধ্যেও আলাদা হয়ে আধিভৌতিক পথে ব্রহ্মকে ছুঁয়ে থাকি দিন রাত৷
এই ছোঁয়াছুঁয়ির খেলায় জিতে যাচ্ছে দুটো ঠোঁটের মধ্যবর্তী নির্বাচন কমিশন। নিজেদের তিল জন্মানো দোফসলি জমিতে একটা ঘুড়ি উড়ে বেড়ায় নিজের ইচ্ছেয়। একে কি বলব জানিনা। অথচ বিশ্লেষনে মোমবাতির সহবাস৷
হে ব্রহ্ম, তুমি কি আজ জানো আমি কতখানি রেবতী কিংবা একাকী ধ্রুব? রহস্য অনুমান নিয়ে অনুধাবন হলে বুঝি —
“এই আমার অন্তরতম আত্মা, এই পৃথিবীর চেয়ে বড়, এই আকাশের চেয়ে বড়, এই ব্রহ্মাণ্ডের চেয়ে বড়। এই আত্মা, এই আত্মসত্তাই হল সেই ব্রহ্ম।”
— ছান্দোগ্য উপনিষদ ৩.১৪.৩ থেকে ৩.১৪.৪