গল্পতে নীল নক্ষত্র

কিছুতেই না
ক্যানসার যে কানে কানে বলে গেছে আয় চলে আয় আমার কাছে। মায়ার বাঁধনে বাঁধা পড়ে’ আর থাকিস না রে তুই।
ভালোবাসার কাঙাল রে তুই,জানিস না তো চাতক পাখির শুকনো ঠোঁটে বৃষ্টি নামে না ।
“এরা সুখের লাগি প্রেম চাহে , প্রেম মেলে না, সুখ চলে যায়”।
আমি আজ বাড়িতে একদম একা আছি। তোমার পক্ষে সম্ভব হলে, কোন অসুবিধে না থাকলে , আমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করলে তোমার যখন সময় হবে তখন তুমি আমাকে ফোন করতে পারো কবিতা।
তোমার ভালো লাগবে কিনা জানিনা, আমার খুব ভালো লাগবে এইটুকু শুধু আমি জানি। ।
তিরিশ বছর ধরে আমার কলমের কবিতার সাথে থাকতে থাকতে সে বেচারী বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এই কথাটা বেশ বুঝতে পারছি।
হয়তো সেই কারণেই আর এক কবিতার দেখা পেয়েছি। এখন নীল নক্ষত্রের চোখের আলোয় আমি আমার চেনা পৃথিবীটাকে আবার নতুন করে দেখতে শুরু করেছি।
শ্রাবণের শেষ সন্ধ্যায় নীল নক্ষত্রের এক অভিনব গল্প সমগ্র “নীলকণ্ঠের নামে” প্রকাশিত হতে চলেছে। তুমি অবশ্যই সেদিন উপস্থিত থেকে আমার একটি গল্প পাঠ করো যেটা তোমার ভালো লাগে। ।
আমার গলা থেকে তো স্বর হারিয়ে গেছে চিরকালের জন্য, তাই তোমার অনুভবী উচ্চারণে আমি আমার আমিকে খুঁজে পেতে চাই নতুন করে।
রক্তের সম্পর্কে আমার প্রিয়জনের কাছে আজ আমি মৃত। তাঁরা সকলেই আমার শেষদিনের প্রতীক্ষায় উন্মুখ। তাদের আর কষ্ট দেওয়া আমার কি উচিত বলো?।
আমি তো মহাভারতের ভীষ্ম।ওরা সবাই সে কথা জানে। তাই স্বেচ্ছামৃত্যুর উপায় বারে বারে স্মরণ করিয়ে দিতে চায় তারা।
নীল নক্ষত্র হারিয়ে গেলে অশান্ত সমুদ্রে নাবিকের মুখটা বারবার ভেসে ওঠে চোখের সামনে। সে কাকে দায়ী করবে বলো ? তার তো অনেক দায় আছে সাগর পাড়ি দেওয়ার। সেই দায়ের বোঝা তো আমাকেই বইতে হবে কালের সীমানা ছাড়িয়ে যতদিন সূর্য থাকবে এই আকাশে।
দিনের আলোর কান্ডারী দিয়ে গেছে তার সবটুকু দায়ভার আমাকে রাতের এই আকাশের জন্য। সেই তো আমার পরম পিতা। আমি তার এক আজ্ঞাবহ দাসানুদাস মাত্র। ।
কি করি বলতো, কাকে খুশি করি, কি আছে উপায়? সূর্যমুখী, কন্টকাকীর্ণ লাল গোলাপ আমার বড় প্রিয়। রাতের রজনীগন্ধা এখনো একা জেগে থাকে শুধু আমার জন্য।
এরা কেউ সুখের কথা বলে না , এরা শুধু অপেক্ষা করে , ভাবে তোমার আমার অসহায়তার কথা, এরা সবটুকু বিলিয়ে দিয়ে ধন্য হতে চায়, বিনিময়ে এক পশলা বৃষ্টি , হয়তো বা এক ফোঁটা অশ্রুকণা যার নাম প্রেম।
এটাই আমার সুখ, এই সুখ হারিয়ে যাক আমি চাই না,
….কিছুতেই না।