T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় নীল নক্ষত্র

বিসর্জন
অণু গল্প লিখতে হবে। কি ঝকমারি রে বাবা! বিশাল গাউনের কাটছাঁট করে মিনি স্কার্ট বানিয়ে দিয়ে গল্পের অণুকে তো কোনমতে সামলালাম। ।
এদিকে মনিকে নিয়ে আর এক ঝামেলায় পড়লাম। মিনি স্কার্ট দেখে লক্ষী, সরস্বতী দুজনেই বায়না ধরেছে মায়ের কাছে।ওদের বাবা তো এখন কৈলাসে। আদর দিয়ে বাঁদর বানানোর মত কেউ তো নেই এখানে।
মা দুর্গা কাউকে না পেয়ে বারাসাতে গিয়ে মনি কে ধরেছে। তোমার বড়কাকার জন্য ঝামেলায় পড়েছি। তুমি এখন সামলাও।
আমি মনিকে বলেছি একদম চিন্তা করিস না, আবার যদি খোঁচাখুঁচি করে তাহলে বলবি সব ঠিক হয়ে যাবে নেটের গন্ডগোল।মেকানিক ফিরে এলেই সব ওকে হয়ে যাবে।
দুদিন পর দেখ না কি হয় এবার। সবাই একা শুয়ে শুয়ে কাতরাবে, হসপিটালে বেড নেই, বেড থাকলে ডাক্তার নেই, ডাক্তার থাকলে সিস্টার নেই, এইসব ঝামেলা সামলাতে সামলাতে দিন শেষ।
দশমীর সন্ধ্যেয় লক্ষী, সরস্বতী,গণেশ, কার্তিক আর জগজ্জননী মা দুর্গাকে কর্পোরেশনের লোকেরা হ্যাচড়াতে হ্যাচড়াতে নদীর জলে ঠেলে ফেলে দিয়ে জল ছেটাতে ছেটাতে চেল্লাতে শুরু করে দেবে….. *আসছে বছর আবার হবে , আসছে বছর আবার হবে , দুগ্গা মাইকি জয়।
বলিহারি যাই বাবা ,ওদিকে রাতের অন্ধকারে মোবাইলে ফটাফট ছবি তুলছে এক টমবয় ….নৌকো থেকে ঝপাঝপ পলিথিন চাদরে মোড়া মানুষের লাশ ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলছে কিছু মুখোশধারী লোক নদীর জলে।
ততক্ষণে বিসর্জনের বাজনা শুরু উল্টোদিকের ঘাটে…… ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ , ঠাকুর যাবে বিসর্জন।