গদ্যে নীল নক্ষত্র

ফেরিওয়ালা
ফেরিওয়ালা ও ফেরিওয়ালা একটু দাঁড়াও না বাবা , তর সয় না যেন, আমি আসছি তো নাকি?
তুমি রোজ এই সময়ে আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে ঝুমঝুমি বাজাতে বাজাতে
চলে যাও। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে রোজ তোমাকে দেখি। আজ রাঙাপিসিকে বললাম দুপুরে আজ আমি তোমার সাথে অনেক গল্প করবো।
আমি বারান্দা থেকে দেখতে পাই তোমার কাছে কত পুতুল আছে, ঝুমঝুমি আছে ,
কত চশমা আছে, নানা রঙের চশমা। তোমার কাছে যা আছে আমার কাছেও তাই আছে। পুতুল আছে, ঝুমঝুমি আছে, আছে অনেক চশমা…….সব সত্যিকারের।
সত্যি, সত্যি ,সত্যি এই তিন সত্যি করলুম গো । এইবার বিশ্বেস হলো তো ? তুমি কোথায় থাকো গো ফেরিওয়ালা ?
……..ও ওই ডুমুরজলার ধারে , ওখানে আমার এক বন্ধু থাকে তার নাম বিনি। এবার সরস্বতী পুজোয় আমার আর বিনির হাতে খড়ি হবে আমাদের বাড়িতে । তোমার মেয়ে রাইকেও নিয়ে এসো।
আমাদের তিন বন্ধুর একসাথে হাতে খড়ি হবে।তার পরে সবাই মিলে একসাথে প্রসাদ খাওয়া। নারকোলে কুল খেতে আমার খুব ভালো লাগে। খুব মিষ্টি কুল। খুব মজা হবে বলো
সেদিন রাইকে আমি একটা বার্বি ডল আর একটা চশমা দেবো । জানো তো আমার কাছে দাদুর চশমা আছে তিনটে। দিদার আছে মাত্র একটা। দিদা তো এখনো অত বুড়ি হয়নি।
ঠাম্মার চশমা আছে। মেজদাদু, সেজদাদু, ন’দাদু সবার চশমা আছে। বড় পিসেমশাইয়ের চশমাটা কালকেই পেলাম গো।
জানো তো ঠাকুরদাদার চশমাটাই নেই আমার কাছে। আমার ঠাকুরদাদা তো কবেই মরে গেছে। আমি তো তখন খুব ছোট ছিলাম।তাই আমি আর ওটা খুঁজে পাইনি।
দিদা কি বলে জানো …..”তুই একটা আস্ত বুড়ি”। আমি তখন দিদার চশমাটা পড়ে দিদার মতো করে দিদাকে-ই বলি ……..
“কোনদিন দু:খ পেয়ো না ভাই ,দু:খ না থাকলে দেখবে তোমার কোন কষ্ট ও
আর নেই”।।