গল্পতে নীল নক্ষত্র

লুটেরা
আপনি ব্যাঙ্কে দু’হাজার টাকা জমা রাখলে বছরে শতকরা তিন টাকা পঞ্চাশ পয়সা হারে সুদ পাবেন মাত্র সত্তর টাকা।
ব্যাঙ্কের থেকে দু’হাজার টাকা ধার নিলে শতকরা তের টাকা সুদের হারে আপনাকে দিতে হবে বছরে দুইশত ষাট টাকা।
কিন্তু আপনি যদি দু’হাজার টাকার খাবার খান তাহলে সেইদিনে শতকরা আঠারো টাকা হিসেবে জি.এস.টি বাবদ আপনাকে দিতে হবে তিনশত ষাট টাকা।
নিমতলীর খুড়ো বিড়বিড় করে বলে কি জানো, বলে “একেই বলে লুট”।
ভোটে দাঁড়িয়ে সরকারে যেতে পারলে অনেক টাকা আয়ের একটা ভালো রাস্তা এতদিনে খুঁজে পাওয়া গেছে তাহলে। একে লুট বলে না কি? দেশ এগিয়ে চলেছে এটাই তো তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। খুড়ো আদ্যিকালের বুড়ো , ও কি জানে দেশের হালচাল।?
এই বাজারে একটা প্রাইভেট ব্যাঙ্ক খুলে নিতে পারলে এই বাজারেও টেনেটুনে চলে যাবে যা হোক করে। আর একটা ভালো উপায় জানা আছে আমার । দু’হাজার টাকা কর্জ দিলে প্রতি মাসে দুই শত কড়কড়ে নোট হাতে হাতে হাত বদল। মানে বাৎসরিক আয় মাত্র দু’হাজার চারশত টাকা।
এ আমার হিসেব নয়, মোক্তার সাহেবের হিসেব। ভুল হয় না সাহেবের কোনদিন।সাতপুরুষ ধরে নবাবগঞ্জের নবাবের খাজানা সামলানোর কথা তার নখদর্পণে।
তবে এখানে একটা কথা আছে। এখন তো আর হাতিবাগানে হাতি নাই, তাই নবাবগঞ্জেও নবাব নাই, তবে আছে একজন, রমরমা তার ব্যবসা। তার মতো চোখে সুরমা লাগাতে হবে, তার মতো আফগানী পোষাক পড়ে রাস্তায় এসে দাঁড়াতে হবে।
এ কিন্তু মিনির সেই কাবুলীওয়ালা নয়। এর নাম রশীদ খান, রইস আদমী। ব্যস মুশকিল আসান, কেল্লা ফতে।একে কেউ লুট বলে না আজ। এ হলো গিয়ে দিনের আলোয় ডাকাতি। চোর,ছ্যাচোর, আর লুটেরার থেকে ডাকাত অনেক ভালো।বেশ একটা রঘু ডাকাত, রঘু ডাকাত গন্ধ আছে এর মধ্যে।
সত্যি ভেবে দেখার মতো বিষয়। দস্যু রত্নাকর তো ডাকাত ছিল একসময়, তারপরে বুড়ো বয়সের ভীমরতি আর কি। বাল্মিকী মুনি হয়ে রামায়ণ লিখে ফেললো একদিন।
আজ একডাকে সবাই তাকে চেনে।অতদূরে যেতে হবে কেন, ঘরের পাশেই তো ফাটাকেষ্ট আছে। আজ তার রমরমা দেখে কে! দু’দুটো সিনেমা তৈরি হয়ে গেল তার জীবন চরিত নিয়ে।
কি ফাটাফাটি ডায়লগ… “মারবো এখানে , লাশ পড়বে শ্মশানে”. তখন কে কার কথা শোনে। খুচরো পয়সার ওড়াউড়ি, ঠনঠনাঠন ঠন। একটাই মিউজিক।
কতজনের এমন ভাগ্য হয় বলুন তো! হালে অচেনা মহানায়কের একটা সিনেমা তৈরি হয়েছে, মহানায়িকা ব্রাত্য। বলুন তো নায়িকা ছাড়া কেউ কি নায়ক হতে পারে? তাহলে তো আমার মতো রাম,শ্যাম,যদু,মধু সবাই নায়ক হয়ে ফুলগাছের ডাল ধরে গান গাইতে শুরু করতো….”আমি এসেছি, আমি এসেছি”।
।
ধান ভানতে শিবের গীত, ছাড়ুন এসব। চলুন উত্তর কলকাতার কালীপুজো দেখে আসি । এইসময় ফাটাকেষ্টর নামে কত শত পটকা ফটফট করে ফাটে তার হিসেব ক’জন জানে বলুন!
জানে শুধু এক বিধায়ক আর নীল নক্ষত্র।।