।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় নীলাঞ্জনা মল্লিক

শব্দগুচ্ছ

সেদিন স্টাডি টেবলে তুমি ফেলে রেখে গেছিলে কিছু ভাঙ্গাচোরা শব্দগুচ্ছকে।
খালি কফিকাপের পাশে ওদের ঝরা পাতার মত পড়ে থাকতে দেখে আমি কুড়িয়ে নিয়ে হৃদয়বন্দী করেছিলাম।
তারপর থেকেই, প্রতিবার জ্বর নামলে
মোমের মতন গলে পড়া অনুভূতিদের স্বচক্ষে দেখতে পাই, স্পষ্ট।
দুই আকাশের বিচ্ছিন্নতা বাড়ে।
এখনও- তোমাকে পকেটের মধ্যে আধখানা চাঁদ ভরে রাখতে দেখে আমার চোখ জ্বলে যায় ঈর্ষায়।
আর সেই স্বপ্নপোড়া ছাই দিয়ে,
শীতল মেঘের ছবি এঁকে আমার মাথার ওপরে বিছিয়ে দেয় তোমারই ফেলে যাওয়া জীবন্ত শব্দসমষ্টি।
আমি আবার কফির কাপে ধোঁয়া ওঠাই,
হ্যাঁ— সেই স্টাডি টেবলেই।

অকালবর্ষণ

দূরনগরী থেকে আচমকা ধেয়ে আসা ধুলিঝড়ে চোখ বন্ধ হয়ে যায়।চারিপাশে ছড়ানো ছিটানো ছেঁড়া চিঠিদের ভেতরে থাকা মন ভালো নেই-রা, একত্র হয়ে আকার নিতে চায় ঝাপসা কবিতার।
আকাশচারিণী খাতা খুলে কবিতার স্কেচ আঁকতে বসে চিলেকোঠায়।
কবিতার চেহারা বিবর্ণ। লজ্জাবনত নারীর মত দু’হাত দিয়ে মুখ চাপা।
ছাদপাঁচিল আঁকড়ে ধরা অপরাজিতার গাছটায়- আকাশচারিণীর আনন্দাতীত অভিসারের লুকিয়ে রাখা চিত্ররা তখন সশব্দে ক্রন্দনরত।
ঝড়ের দাপটে দোদুল্যমান নীল ফুল আর সবুজ যৌগিক পাতায় নরম আঙুল ছোঁয়ায় সে।
ঝড়শেষে বৃষ্টি আসে।
চুলভেজা জলের স্পর্শে,
বিবর্ণ কবিতা মুখ তুলে রাঙ্গা ঠোঁটে হেসে ওঠে।
রক্ত ছোপ লাগা হৃদয়কে বারবার সঞ্জীবনী যোগানোর দায় তো চিরটা কালই অকালবর্ষণের।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।