সেদিন স্টাডি টেবলে তুমি ফেলে রেখে গেছিলে কিছু ভাঙ্গাচোরা শব্দগুচ্ছকে।
খালি কফিকাপের পাশে ওদের ঝরা পাতার মত পড়ে থাকতে দেখে আমি কুড়িয়ে নিয়ে হৃদয়বন্দী করেছিলাম।
তারপর থেকেই, প্রতিবার জ্বর নামলে
মোমের মতন গলে পড়া অনুভূতিদের স্বচক্ষে দেখতে পাই, স্পষ্ট।
দুই আকাশের বিচ্ছিন্নতা বাড়ে।
এখনও- তোমাকে পকেটের মধ্যে আধখানা চাঁদ ভরে রাখতে দেখে আমার চোখ জ্বলে যায় ঈর্ষায়।
আর সেই স্বপ্নপোড়া ছাই দিয়ে,
শীতল মেঘের ছবি এঁকে আমার মাথার ওপরে বিছিয়ে দেয় তোমারই ফেলে যাওয়া জীবন্ত শব্দসমষ্টি।
আমি আবার কফির কাপে ধোঁয়া ওঠাই,
হ্যাঁ— সেই স্টাডি টেবলেই।
অকালবর্ষণ
দূরনগরী থেকে আচমকা ধেয়ে আসা ধুলিঝড়ে চোখ বন্ধ হয়ে যায়।চারিপাশে ছড়ানো ছিটানো ছেঁড়া চিঠিদের ভেতরে থাকা মন ভালো নেই-রা, একত্র হয়ে আকার নিতে চায় ঝাপসা কবিতার।
আকাশচারিণী খাতা খুলে কবিতার স্কেচ আঁকতে বসে চিলেকোঠায়।
কবিতার চেহারা বিবর্ণ। লজ্জাবনত নারীর মত দু’হাত দিয়ে মুখ চাপা।
ছাদপাঁচিল আঁকড়ে ধরা অপরাজিতার গাছটায়- আকাশচারিণীর আনন্দাতীত অভিসারের লুকিয়ে রাখা চিত্ররা তখন সশব্দে ক্রন্দনরত।