কবিতায় নবকুমার মাইতি

দামিনীরা আজও কাঁদে
কি হবে আর সান্ত্বনা বাক্য দিয়ে
কেবল অনুশোচনায় ভুগতে হবে
রক্ষক যেখানে ভক্ষকের আসনে বসে
সজ্জনের প্রতি পাশবিক অত্যাচার
নিত্য ধর্ষিতা হয় নারীর সম্ভ্রম
কারুর নিস্তার নেই, মদ্যপের লোলুপ জিহ্বা থেকে
কচি দুধের শিশু, বৃদ্ধা, রজস্বলা নারী, সন্ন্যাসিনী
রিরংসার উন্মত্ত উল্লাস, নিরন্তর
রাজধানী থেকে গ্রাম বাংলার প্রত্যন্ত প্রদেশ
শ্রীনগর কাশ্মীর থেকে ইম্ফল কোহিমা
সাইবেরিয়ার অরণ্য সর্বত্রই মাংস ভাগের লড়াই
ন্যায় নীতি, মানবিকতা, মৈত্রী, প্রেম, সৌভ্রাতৃত্ব
নিলাম হয়ে যাচ্ছে স্বার্থের হাড়িকাঠে
নীতির শ্রেষ্ঠ রাজনীতি নয়, রাজার হুকুম রাজনীতি
অধিক মুনাফা, চাটুকারিতা, লোভ আর লাভ
মানবিকতায় উত্তরণ কোথায়?
সত্যদ্রষ্টা নিষ্পাপ বালক হাড়হিম আতঙ্কে
সত্যি কথা বলার সাহস হারায়, কখনো বা
মুখ থুবড়ে পড়ে পিতা মাতার লাশের উপর
উলঙ্গ রাজার দেশে পূজা পায় কেবল
স্তাবকেরা। মূর্খের স্বর্গে পণ্ডিতের উপর
নিদারুণ অত্যাচার। শিক্ষা, সংস্কৃতি, সহবত
ল্যাম্পপোষ্টে মাথা কুটে মরে
একবিংশের ভয়ঙ্কর বিভীষিকা
বিষণ্ণ ভৈরবীর সুর, সেখানে দামিনীরা
চিরকালই কাঁদে, ন্যায় বিচার নীরব দর্শক
কাল থেকে কালান্তরে ওদের আর ফেরা হয় না
স্বাতী নক্ষত্রের আলোয়। পূজা পায় না ভগবতী রূপে
কেবল ভোগবতী থেকে যায় কালের সরণীতে
কোন প্রতিকারই সেখানে সান্ত্বনা হতে পারে না
কেবল দীর্ঘশ্বাস আর দু’ফোঁটা চোখের জল!