কবিতায় বলরুমে নীল মিত্র

তার অবদান
তাকে আমার ভরা চৈত্রের মেঘ মানি, অমূল্য পরশমণি,
তপ্ত দিবসে এক পশলা শীতল বৃষ্টির মতো
সে আমার মরুভূমির উপর স্নিগ্ধ শীতল পরশখানি।
চূড়ান্ত ফাল্গুন নিয়ে সে আসে ফুল ফোটাবে বলে,
ভরিয়ে দেয় আমার জীবন সুন্দর সুবাসে ভরা ফুলে ফুলে।
বর্ষার ধারার মতো সে এসে ভিজিয়ে দেয়,
আমার যত জ্বালা সে নিজের করে নেয়।
পর্বতের অবিচল উপস্থিতির মতো আগলে রাখে,
সে এক পরিমিতির চেতনায় আমার দিকে দেখে।
তার এই মায়া জড়ানো বোধ আকৃষ্ট করে, আমার অসংযত মনকে দুই বাহুতে জাপটে ধরে।
আমার জীবনের অনিয়ন্ত্রিত স্বভাব হার মানে তার কাছে,
কেমন করে যেন বাধ্য হয়ে যায় তার ওই নির্দিষ্ট পরিসরের মাঝে।
ক্রমশঃ বশ মানতে থাকি তার ওই অটল ব্যক্তিত্বের প্রভাবে,
মুগ্ধতার আবেশে মিশে যাই তার মিষ্টি স্বভাবে।
আর যত ভেঙ্গেছি যখন সে ছিল না, সেই অভাবে,
সে ততোই নিপুণতার সাথে গড়তে থাকে আমাকে।
তার ওই নিষ্ঠা ও সংযম দিয়ে আমার সমস্ত উন্মাদনাকে প্রশমিত করে একসময়ে,
আমাকে তার উপযুক্ত করে দেয় নিয়ে নিজের আশ্রয়ে।
সে তো কোন সাধারণ নারী নয়, সে ঈশ্বরের আশীর্বাদ,
আমার জীবন কবিতার প্রতি পাতা তার-ই অনুবাদ।