কবিতায় নবকুমার মাইতি

এসো হে নববর্ষ

নববর্ষ এলে মনটা স্মৃতির সরণিতে হাঁটতে শুরু করে
তুলে আনে শৈশবের ভাঙা আধুলি আর যৌবনের
ধুন্ধুমার দিনগুলো। মাথার উপরে শূন্যতা, তলায় রুগ্ন মাটি
ভুলুণ্ঠিত নারীর সম্ভ্রম। ক্ষতবিক্ষত সমাজ শরীর
কিছুক্ষণ আলো আঁধারির মধ্যিখানে এসে ভাবতে বসি
কি দেখেছি কালের করাল গ্রাসে, কি পেয়েছি?
শূন্যতার গায়ে জামা পরাতে পরাতে ভারে ভারে শূন্য হয়ে যাচ্ছি
মূল্যবোধ নেইঃ দুঃখ, যন্ত্রণা, নৈরাশ্য
শুধু দাও দাও। মানুষ আজ উৎকণ্ঠায়
জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কিছুই নেই : আমি নেই, আমরা নেই
তুমি নেই, ওরাও নেই। নেই ভুবনডাঙার পাকুড় গাছগুলো
চারিদিকে নিরস্তিত্বের অস্তিত্ব, শুধুই ফসিল
এই চরম দুঃখে বড় সাধ জাগে মানুষের পাশে বসি
ওদের মুখে তুলে দিই বৈশাখী পরমান্ন
আমার দৃষ্টি চলে যায় পাশের গাঁয়ে, ডুলুং, ইরাবতী
নদীর পাড়ে, দুলে-বাগদি পাড়ায়। তাদের নিরন্তর
অভাব শূন্যতা দেখে দু’চোখে অশ্রুর বান ডাকে
ঈশ্বর ও আল্লার উদ্দেশে বলি, ওদের শক্তি দাও, বাঁচতে দাও
মনে পড়ে ডারউইনের ‘অরিজিন অব্ স্পেসিস’, অস্তিত্বের লড়াই
সামাজিক ও মানবিক অবক্ষয়; রুদ্ধশ্বাস পথচলা
চরম অভাব ও অস্থির সময়ে নিরবধি প্রতীক্ষায় বসে রই
নতুন বছরে দেখে যাব এক আলোকিত সুসময়
রাম ও রহিমের ছেলে লাটাই হাতে ঘুড়ি ওড়ায় উন্মুক্ত মাঠে
ওদের পরনে বহু প্রতীক্ষিত নতুন পোশাক, হাতে দুটো লজেন্স!

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।