কবিতায় নবকুমার মাইতি

আনন্দ আশ্রম

দুটো হাত ধরে বলেছিল সে
এইখানে বসো কিছুক্ষণ
বিকেলের শেষ আলো আশাহীন
নিরুত্তাপ নিঃশব্দে অপসৃয়মান
ক্লান্ত, অবসন্ন, বেদনাবিধূর মনে হয়।
জীবনের অনেক নিগূঢ় সময় কাটিয়েছি
যার সাথে ; সুখ দুঃখ কান্না হাসি
আজ বড় নস্টালজিক মনে হয় পশ্চাৎ সময়
হয়তো বা একা; সুনীল আকাশ, ছায়া সুনিবিড় শান্তির
নীড়ে, চির বিচ্ছেদ মাঝে হবে কি গো শেষ দেখা?
প্রতীক্ষার মগ্নবেলা বড্ড বেশি বিলম্বের মনে হয়, যেন স্থিতপ্রজ্ঞ
অচল সময়। কলঙ্ক সয়েও জোছনা দান করে চাঁদ
আষাঢ়ি মেঘ করে বারি বরিষণ ফুটিফাটা তৃষ্ণার্ত
মাঠের বুকে, সে তো শুধু আপনার সুখে নয়
ধরা ও ধূলির প্রতি কর্তব্যনিষ্ঠায়।
আর কোন পিছু টান নয়, জীবনের পড়ন্তবেলায়
ঝেড়ে ফেলে নিরালম্ব কামনা বাসনা, পরিত্যক্ত পার্থিব পটভূমি
কেলেঘাইর স্থির জল, পাড়ের বৃক্ষলতা পাখির কূজন
জেলে ডিঙ্গি, নিষ্পাপ শিশুর নদীজলে উল্লম্ফন
পাইন, ঝাউ, দেবদারু দিকচক্রবালে আকাশ মাটি
ও মায়ের পদচিহ্ন, তবু ঐহিকের শেষ আশা এই
যদি কোন নীড় রচে হৃদয়ের তলে, আমি যুগান্তের কবি
সেই হবে অক্ষয় আনন্দের শেষ আশ্রয়।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।