কবিতায় নবকুমার মাইতি

যারা জ্বালিয়েছে বিপ্লবের মশাল
চারিদিকে হাহাকার, যন্ত্রণায় জারিত জীবন অনাহার, ক্লান্তি আর অবিশ্বাসে
ধনুকের মতো বেঁকে যাচ্ছে মিছিলের শরীর
দুর্বল, অশক্ত হাতে আর থাকবে না ব’লে
অস্ত্রগুলো নিজেদের অমোঘ শাণিত ভীষণতাকে
গোপন করতে চাইছে ঝোপ ঝাড়ে অভিমানে, ভয়ঙ্কর জলপ্রপাতের মতো শব্দ তুলে
উঠে আসছে দুঃখ, আরো দুঃখ, আরো….. রোগগ্রস্ত দেহ থেকে ক্লান্ত দীর্ঘশ্বাসের মতো কাঁপতে কাঁপতে
অন্ধকার ঘরকে আরো অন্ধকার ক’রে
বেরিয়ে যাচ্ছে আলোর শেষ শিখাগুলো।
এ-অবস্থা মেনে নেওয়ার আগে
একবার, শুধু একবার তাদের কথা মনে করো— যারা
ধান ক্ষেতে নিঃসঙ্গ দীর্ণ প’ড়ে থাকা নিজের লাশের ওপর জ্বালিয়ে
রেখেছিল প্রতিবাদ প্রতিশোধ আর প্রতিরোধের সীমাহীন মশাল যারা
পা থেকে মাথা পর্যন্ত থির থিরিয়ে কাঁপতে থাকা
একটা উজ্জ্বল হাসির শিখার মতো
অনায়াসে ঢুকে গেল ফাটকের গহ্বরে……
মনে রেখো, অযোগ্য নেতৃত্বকে অস্বীকার ক’রে ধনুকের মতো বেঁকে যাওয়া মিছিলের শরীর থেকে
জ্যা-মুক্ত তীরের মতো স্থির লক্ষ্যে ছুটে যাওয়া, ঝোপঝাড়ে প’ড়ে থাকা অভিমানী অস্ত্রগুলোকে
নিঃশব্দে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তুলে নেওয়া,
ভয়ঙ্কর জলপ্রপাতের মতো দুঃখের বিরুদ্ধে
ঘৃণার আর সহ্যের সমবেত কবিতার প্রতিদ্বন্দ্ব তুলে ধরা
ভীষণ ভাবে প্রয়োজন—
না হ’লে
একটা আস্ত পৃথিবীর সুবিস্তৃত শস্যভূমে
টোকা মাথায়, লাঙল কাঁধে সম্রাটের মতো
চোখের তারায় সোনালী নবান্নের গন্ধে কাছাকাছি
যাওয়া তোমার হবে না কোনদিন—
হাসনুহানার গন্ধে ম-ম করবে না কোন মিষ্টি বিকেল।