ক্যাফে টক

জয় জয় দেবী চরাচর সারে
কুচযূগ শোভিত মুক্তা হারে
সরস্বতী বিদ্যার দেবী , বিদ্যা লাভের জন্যে আমরা সরস্বতী বন্দনা করি যাতে বিদ্যার দেবী আমাদের ওপর তার করুণার বর্ষণ করেন সারা জীবন ।
না এখানটাতেই ভুল । আমরা সারা জীবন বিদ্যা দেবীর করুণা প্রার্থনা করিনা। আমরা ঠিক ততদিনই প্রার্থনা করি যতদিন না আমাদের একাডেমিক স্টাডি শেষ করছি।
তাহলে বিদ্যা কী ?
বিদ্যা আসলে সেই ক্ষমতা যা ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায়। বিদ্যা আসলে সেই অনুভব যা আর্তের জন্যে ব্যাকুল হতে শেখায়। বিদ্যা আসলে সেই শক্তি যা মানুষের বিপদে মানুষ হতে শেখায়। বিদ্যা আসলে আভ্যাসের দ্বারা আমাদের কাম, ক্রোধ, লোভ, হিংসা নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায় , বিদ্যা মানুষকে সত্যি মানুষ হতে শেখায়।
অথচ আমরা বিদ্যা বলতে বুঝি শুধুমাত্র একাডমিক কোয়ালিফিকেশন। এই বিদ্যা কখনোই মানুষ তৈরি করে না শুধুমাত্র শ্রমিক উৎপাদন করে। মেধাও শ্রম দিয়ে অর্থ উপার্জন করে।
একটু সহছ করে বলি , ধরুন যদি কেউ ধনুর্বিদ্যার অনুশীলনে রপ্ত থাকে তাহলে সে কার পুজো করবে ?
সরস্বতী না অর্জুনের, নাকি দ্রোণাচার্যের। যদি কেউ শস্ত্র বিদ্যায় রপ্ত থাকে সে কোন দেবীর পুজা করবে সরস্বতী না শক্তির নাকি শস্ত্র নির্মাতা বিশ্বকর্মার।
আপনার হাতে একটা কুঠার তুলে দিলেই আপনি দক্ষ কাঠুরিয়ার মত গাছ কাটতে পারবেন না। আপনাকে প্রতিনিয়ত অভ্যাস করতে হবে কুঠার বিদ্যার।
কথিত আছে আগেকার দিনে কাঠুরিয়ারা জঙ্গলে কাঠ কাটতে যাবার আগে বনদেবীর পুজো করতেন তারপর গাছ কাটা শুরু করতেন অথচ বনদেবী আসলে বৃক্ষেরই স্বরূপ।
আর আমারা এই সময় বিদ্যার জন্যে বিদ্যা দেবীর আরাধনা করছি ঠিকই কিন্তু প্রতিনিয়ত কুঠার চালিয়ে
বিদ্যারই খুন করছি।
সত্যিকারের বিদ্যা থেকে ক্রমশঃ দূরে সরে যাচ্ছি।