প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে কোনো এক বর্ষা ঘন রাতে ঘটনাটা ঘটে চলেছে বিগত দশ বছর ধরে। ঘটনাটা ঘটার দুদিন আগের থেকেই পপি বুঝতে পারে যে কিছু একটা ঘটবে যা কিনা পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের বোধগম্যতার বাইরে।
প্রথম যেবার ঘটেছিল দশ বছর আগে পপি ভীষণই ভয় পেয়ে গিয়েছিল। সেই বর্ষণ মুখর রাতে ঘুম আসছিল না… শুধু অমিতের কথা মনে পড়ছিল… আন্দামানে হানিমুন করতে গিয়ে হ্যাভলকে অমিতের সমুদ্রের ঢেউয়ে ভেসে যাওয়া সে এখনো মানতে পারছিল না। চোখের কোনে জল ছলছল করছিল।
হঠাৎ একটা চেনা গন্ধে ঘর ভরে গিয়েছিল… গায়ে কাঁটা দিয়েছিল পপির… স্বপ্ন ভেবেছিল… তারপর সেই চেনা স্পর্শ সেই বিশেষ জায়গা গুলোতে… আবেগে চোখ বন্ধ করতে করতে পপি দেখে নিয়েছিল ভেতর থেকে দরজার ছিটকানি তখনো বন্ধ… অথচ সে কি করে যেন ভেতরে ঢুকে গিয়েছে… ভয় আস্তে আস্তে রোমকূপের প্রতিটি অলিতে গলিতে যেন রোমাঞ্চে পরিণত হয়েছিল….
কোনো ব্যাখ্যা পায়নি পপি- ভেবেছিল সাময়িক মনের ভুল… কিন্তু পরের বছর আবার সেই ঘটনা… আবার সেই গন্ধ, সেই স্পর্শ, সেই উপস্থিতি। তারপর প্রতি বছর। সাইকিয়াট্রিক্ট দেখিয়ে লাভ হয়নি – ওনার দেওয়া ওষুধ খেয়েও কিছু হয়নি।
বছরের পর বছর শ্রাবণ মাসে একটি অনির্দিষ্ট দিনে ঘটনাটি ঘটে চলেছে। পপির আর বিয়ে করা হয়নি অনেকের অনুরোধেও। স্কুল শিক্ষকতা আর সেই একটি দিন নিয়ে জীবন কাটিয়ে দিচ্ছে পপি।
হঠাৎ আলো নিভে গেল। প্রবল বৃষ্টির শব্দ আর গন্ধ ছাপিয়ে চেনা গন্ধে ভরে গেল ঘর। নিজের অজান্তে চোখ বন্ধ করল পপি। তার সারা শরীরে তখন অদৃশ্য চেনা স্পর্শ। দুদিন আগেই অবশ্য পপি বুঝেছিল আজ আবার সে আসবে। দূরে কোথায় যেন হ্যাভলক সমুদ্রের আওয়াজ জলপাইগুড়িতে পপির ছিটকানি বন্ধ ঘরে ভেসে আসছে তখন।