গল্পসল্পে নিতাই দাস

অনামিকার কথা

ফুলে বসন্তের ছোঁয়া লাগার আগেই মালীর আদেশে ফুল তোলা হলো, ফুল জানল না ভ্রমর কেমনে আসে যায় । সেই ফুলের মতো অনামিকার যৌবনে বসন্ত আসার আগেই বাল্য বয়সে পিতামাতার বাধ্যকতায় বিবাহ সম্পাদন হয় চৌত্রিশ বছরের এক ব্যাবসায়ী যুবকের সাথে। অনামিকার কোন ধারণা ছিল না বিয়ের পর কিভাবে সংসার,বর সামলাতে হয়।অনু এটা বুঝতে পেরেছে নিশিরাতে তার বর ভালোবাসার আদলে দস্যু হয়ে ওঠে। বিয়ের প্রায় বেশ কয়েক বছর কেটে গেল অনু এখন পুত্র ও কন্যা সন্তানের জননী, গৃহের কাজ কর্মে পরিপূর্ণতায় আজ সে পাক্কা গিন্নি । তার স্বামী ব্যাবসার কাজে ব্যস্ত হয়ে ওঠে ও তাকে সময় দিতে পারেনা এবং অনু নিঃসঙ্গতায় একাকীত্বে ভোগে।
সমজিত ব্যবসায় প্রচুর অর্থ উপার্জন করে ও বেশি লাভের আশায় টাকা চিটফান্ডে জমা করে এবং বেশ কয়েক বছর পর চিটফান্ড কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যায়। সোম পথে বসে যায় ও বাজারে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে এবং দৈন্যদশা সহ্য করতে না পেরে টাকার শোকে পাগল হয়ে যায়।দুই সন্তানের লেখাপড়া ,স্বামীর চিকিৎসা, সংসার চালাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে অনু হাপিয়ে ওঠে ও বর্তমান সমাজ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। বিদ্যা পেটে না থাকায় চাকরীর চেষ্টা না করে লোকের বাড়ির রান্নার কাজ করে পরিবারের চাহিদা মেটায়।
পরিশ্রমের টাকা সঞ্চয় করেছে সে একটি স্মার্ট ফোন কেনে সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয় এবং ফেসবুকে বহু মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করে।ফেসবুকের দৌলতে শুভম নামে প্রথম বর্ষের কলেজ পড়ুয়ার সাথে বন্ধুত্ব হয় এবং অনুর একাকিত্বের আকাশে নবতারার আগমন ঘটে। একবিংশ শতাব্দীর সংস্কৃতির ছোঁয়া ধরা পড়েছে শুভম এর জীবন শৈলীতে। সে সুদর্শন চেহারার অধিকারী, যে কোন নারী তাকে প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে যাবে।
অনামিকা ও সমজিতের মাঝখানে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিল শুভম এসে অনুর জীবনে পরিপূর্ণতা রূপ দিয়েছিল। শুভ কলেজ ফাঁকি দিয়ে অনুর সাথে মাঝে মাঝে দেখা করে ও বন্ধুত্বের রং আরো গাঢ় হয়। কয়েক মাস পর সেই বন্ধুত্ব থেকে ওই ছাত্রের প্রেমে ডুবে অনু একে অপরের অনেক কাছে আসে ও তার হাতে গড়া সংসার পরিজন সে ভুলে যায়।
একদিন তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে দূরে কোথাও চলে যাবে যেখানে তাদের প্রেমের কেউ কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না, শেষ পর্যন্ত তারা দুজনে পালিয়ে গেল দূর অজানার দেশে ।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।