কবিতায় বলরুমে মমতা শঙ্কর সিনহা(পালধী)

মহাবীর কর্ণ

হে মহাভারতের বীরযোদ্ধা কর্ণ
তব জন্মবৃতান্ত রহস্য ঘেরা
নও তুমি সুতপুত্র–তবুও সারাজীবন পেলে সে জ্বালা অন্তরে,অন্তরে—-।
সুরসেনের লালিতা কন্যা কুন্তীর
আথিতেয়তায় সন্তুষ্ট মুণি দুর্বাসার
অদ্ভুত মন্ত্র দানের ফলস্বরূপ সূর্যদেবের কৃপায় কুমারী মা’য়ের গর্ভজাত সন্তান তুমি মহাপরক্রমশালী, দানবীর কর্ণ।
জন্ম মূহুর্তে নিজ সম্ভ্রম রক্ষার তরে কুমারী মা কুন্তী ত্যাজিলো তোমারে নদী বক্ষে স্বর্ণখচিত বাক্সে—
নিঃসন্তান দম্পতি অধিরথ সারথী —- আর রাধা কর্ণে কুন্ডল ও বক্ষে অদ্ভুত বর্মের আবরনে আবৃত শিশুরে করলেন পরম যত্নে লালন–নিজ সন্তান স্নেহে।
ক্ষত্রিয় বংশজাত না হওয়ার হেতু
দ্রোণাচার্য না হলেন তাহার অস্ত্রগুরু,
প্রবল অস্ত্রশিক্ষার বাসনা মনে রাখি– নিজেরে ব্রাক্ষ্মণ পুত্র বলে
পরশুরামের তরে করিলেন অস্ত্রশিক্ষা হে বীরযোদ্ধা কর্ণ তুমি।
ব্রক্ষ্মবিদ্যা,অস্ত্রবিদ্যা,সবই বিফল হলো একদিন কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গণে তব গুরুর অভিশম্পাতে।
কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গনে সন্ধ্যা আহ্নিক কালে পূর্ণ জাহ্নবী তীরে
নিজ মাতৃত্বের ভিক্ষা লয়ে জন্মদাত্রী কুন্তী এসে দাঁড়ালে তব সম্মুখে—
জন্ম পরিচয় জানিয়া দানবীর, বীরযোদ্ধা,মহাপক্রমশালী কর্ণ তুমি জন্মদাত্রীরে বলিলে–করিতে পারিবে না কৌরব সনে বিশ্বাসঘাতকতা–দিয়েছে তারা তোমারে মান—অঙ্গরাজ্য দানে,
তবুও বলিলে হে মা’তো—এ যুদ্ধে জয়ী হবে পাণ্ডবগণ ঐ—–
মহাভারতের বীরযোদ্ধা কর্ণ তুমি
এক ট্রাজিক চরিত্র সম–,, কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গণে ধুলো ধূসরিত মৃত্যু পথযাত্রী
সর্বশেষে লইলে তুমি শ্রীকৃষ্ণ স্মরণ—–
পরাজিত হয়েও—নিজ সৌর্য-বীর্যের গুণে চির-বিজয়ী তুমি হে বীরযোদ্ধা কর্ণ—– মহাভারতের এ ধর্ম যুদ্ধের আসরে—–।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।