খানিকবাদে সবিতা হেসে উঠে বলল, এমনটা ভূভারতে কোথাও হয়নি। চিরকাল শুনি পাত্রপক্ষ মেয়েদের বাড়িতে এসে দেঁড়েমুষে খেয়ে, মেয়েকে হাঁটিয়ে চলিয়ে, চুল খুলিয়ে, গান জানো কিনা জেনে নিয়ে, তারপর বলে পাঠায় যে, মেয়ে তাদের পছন্দ হয় নি। বৌরাণি, আজ তোমার মেয়ে তাদের সব্বার উপর মোক্ষম একটা চাল চেলে দিয়েছে। একা একা ছেলের বাড়িতে গিয়ে, তার বাড়ি ভর্তি লোকজনের সামনে হেঁকে বলে দিয়েছে, তোমাদের ছেলেকে আমি বিয়ে করব না।
বাসন্তীবালা বললেন, না রে সবিতা, হাসির কথা নয়, রমানাথের মা হয়ত বা রাগের মাথায় গতকাল শ্যামলিমাকে একটু উলটোপালটা কিছু বলেছেন। আমি বলছি না, সেটা ভাল জিনিস। তবে সদ্য স্বামীহারা। তাকে ক্ষমা করাই যেত।
শশাঙ্ক পাল বললেন, দ্যাখ, একজন মানুষ তোর উপর একটা ভুল আচরণ করেছেন। কিন্তু, তা বলে তার পালটা অপমান তুই করে আসবি, এ আমি ভাবতেই পারছি না।
শ্যামলী বলল, বাবা, আমি ওদের উপর কোনোরকম রাগ করে যে ওকথা বলে এসেছি, তা কিন্তু নয়। আমাদের সমাজে মানুষ একটা ধরনের কথা বলে, আর কাজ করে আরেকটি লাইনে। ইন্দিরা গান্ধী ‘গরিবি হঠাও’ মুখে বলতেন, কিন্তু কাজে যা করতেন, তা গরিব হঠাও এর নামান্তর। এ রাজ্যের বামপন্থীরা আরো এককাঠি সরেশ। তাঁরা সাধারণ মানুষের ছেলেদের জন্যে ইংরেজি কেড়ে নিয়ে নিজের ঘরের ছেলেমেয়েদের কনভেন্টে পাঠান। আমাদের দেশে সায়েন্স পড়ে গ্র্যাজুয়েট হবার পর লোকজন হাতে রত্ন পাথর ধারণ করে গ্রহের দোষ কাটায় আর গ্রহণের সময় হাঁড়িকুড়ি ফ্যালে। আমি কিন্তু মনে মুখে এক হতে চেয়েছি। আমি সত্যি সত্যি বিশ্বাস করি, বিয়ে জিনিসটা একটা লিগালাইজড প্রসটিটিউশন, আর ঠিক সেই কারণেই আমি বিবাহিত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে চাইছি না।