সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে মৃদুল শ্রীমানী (পর্ব – ১৫)

হে মার্কেটের গণ্ডগোলটা মাত্রই পাঁচ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল, কিন্তু ওই গণ্ডগোলের চোটে সাত সাতটা পুলিশ অফিসার মারা পড়েছিল। আর শ্রমিক ও শ্রমিক দরদী নাগরিকদের যে কতজন মারা পড়েছিল, তার আর হিসাব রক্ষণ করবার কেউ ছিল না। গণ্ডগোলে গুরুতর জখম হয়েছিল ষাটজন পুলিশ। এতবড় আঘাত কেউ কোনোদিন চিকাগো পুলিশের উপর করতে পারেনি। সবাই বুঝতে পারছিল যে পুলিশের উপর এহেন আঘাতের কারণে একটা খুব বড়মাপের দাম দিতে হবে।
 মালিকদরদী কাগজগুলি একযোগে শোর তুলল যে অভিবাসী শ্রমিকরাই এই হামলা করেছে। বড়লোক ঘেঁষা কাগজ চিকাগো টাইমস অভিবাসী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে রক্তগরম করা সম্পাদকীয় লিখল। তাতে বলল, ইউরোপ থেকে আসা এইসব জঘন্য শ্রমিকগুলোকে চাবকে দূর করে দাও। নেকড়েগুলো যেখান থেকে এসেছিল সেই গর্তে ঢুকিয়ে দাও। যে কোনো ছুতোয় ওদের আমেরিকার মাটি থেকে বিদায় করো। এইসব কাগজের প্রশ্রয়ে চিকাগো পুলিশ শ্রমিকদরদী সংবাদপত্র আরবেইটার জাইটুং অফিসে আর অ্যালার্ম কাগজের অফিসে হামলা করল। আরবেইটার জাইটুং অফিসে বসে মাইকেল শোয়াব আর অগাস্ট স্পিজ পরের দিনের সংবাদপত্রের জন‍্য লেখা তৈরি করছিলেন। পুলিশ তাঁদের অ্যারেস্ট করে জেলে ঢোকাল। তারপর শুরু হল অকথ‍্য নির্যাতন।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।