আজ হেলেন কেলার (২৭ জুন ১৮৮০ – ১ জুন ১৯৬৮ ) এর জন্মদিন। কবিগুরুর লেখা সোনার তরীর “দুই পাখি” কবিতাটি হেলেন অনুবাদে পড়েছিলেন। কবির সাথে সাক্ষাৎ এর সুযোগ হতে কবির মাতৃভাষায় দুই পাখি শোনার ইচ্ছে হল হেলেনের। কবি জানলেন হেলেনের ইচ্ছার কথা। খুব উৎসাহ বোধ করেন নি প্রথমটায়। মেয়েটা সেই ঊনিশ মাস বয়স থেকে লিভারের অসুখে ভুগে চোখে দেখে না, কানে শোনে না, কথা বলতে পারে না। কি করে ওকে কবিতা বোঝানো যাবে ? কবি আড়ষ্ট হয়ে রয়েছেন। হেলেনের জন্যে রথীন্দ্র, কবিপুত্র বাবার উপর চাপ দিলেন। যেতে হল কবিকে। শোনাতেও হল “দুই পাখি”। হ্যাঁ বাংলায়। হেলেন খুশিতে ফেটে পড়ছেন। শোনা ? হ্যাঁ, আপনি ঠিক দেখছেন। কবিদের ওষ্ঠ স্পর্শ করে তার ভাব তরঙ্গ গ্রহণ করে বোঝার অন্য রকম শক্তি ছিল হেলেনের। আনন্দিত হেলেনকে তার শিক্ষিকা বোঝালেন, তুমি যেমন চোখে দ্যাখো না, কানে শোনো না, কথা বলতে পারো না, তুমি যেন একটা খাঁচায় বন্দিনী। মুহূর্তে আপত্তি জানালেন হেলেন। না না, তোমরা শোনো, হেলেনের একটা মন আছে। ওই মনের জোরে সে সব কিছু টের পায়। মনই সব। মনের ভেতর দিয়ে বিশ্বলোকের সাড়া পায় হেলেন। কবিগুরু হতবাক। বন্দিত্বকে কে কবে এভাবে অতিক্রম করেছেন?