কলম নিয়ে বসে ছিলাম,
মাথা নিয়ে জানালায়।
লিখবো মনের ক্ষোভ, ঘৃণা, যন্ত্রণার কথা।
কলম সবে খাতার পাতায়,
এলো এক ঝড়, এক ঝটকায়।
চারদিকে অন্ধকার, বিকেল যেন, হয়েছে সন্ধ্যা
কয়েক ফোটা বৃষ্টি পড়ছে, সাথে প্রচন্ড হাওয়া।
উড়ছে খাতার পাতা, উড়ছে জানলার পর্দা
আমার লেখায় ব্যাঘাত এতো বড় আস্পর্ধা।
গেলাম আমি ঝড়ের কাছে
নিজের জমানো ক্ষোভ উজার করে দিতে।
ওহে কালবৈশাখী, তুমি পাচ্ছ কি শুনতে?
কালবৈশাখীর ঝড় করছে তাণ্ডব নৃত্য
উড়িয়েছে টিনের চাল, উড়িয়েছে বৃক্ষ।
আমায় দেখে দাঁড়ালো ক্ষণিক,
কালবৈশাখী বলে, যা বলার বলো তাড়াতাড়ি
আমার এখনো ওড়ানো বাকি, তার পরে ফিরব বাড়ি।
আমি সবকিছু উড়িয়ে দিতে পারি।
কালবৈশাখীর কথা শুনে স্তম্ভিত আমি,
তবু আমায় বলতে হবে অনেক কথা
আছে অনেক ক্ষোভ, আছে অনেক মনের ব্যথা।
আমি প্রশ্ন করি কালবৈশাখী কে
তুমি কি পারো, সব উড়িয়ে নিতে?
তবে কালবৈশাখী তুমি, নাও উড়িয়ে
মানুষের হিংস্র রিপু।
অহংকার সব, দাও গুড়িয়ে।
তুমি কি পারো দূষণমুক্ত পৃথিবী গড়তে
তুমি কি পারো হিংসা-হানাহানি রুখতে
তুমি কি পারো থামাতে এই মহামারী,
করে দিতে পারো আগের মতো এই ধরনী।
ঘৃণা আছে তাদের প্রতি,
যারা অর্থের লোভে ধ্বংস করে এই পৃথিবী।
ওহে কালবৈশাখী তোমার তো অনেক ক্ষমতা
জবাব দাও মেটাও পৃথিবীর জটিল সমস্যা।
কালবৈশাখী রেগে বলে,
মানবজাতি পৃথিবীর দূষণ।
হিংস্র রিপুর কারণে দূষিত হয়েছে মন।
পশুর চেয়েও মানুষ হয় হিংসাত্মক
মানবধর্ম ভুলে গিয়ে, হয় ঘাতক।
মানবসৃষ্ট মহামারী
তাতে আমি কি করতে পারি?
না আমি এইসব পারবো না ওড়াতে।
এই বলে কালবৈশাখী যেতে চাই দুরান্তে।
দ্বিতীয়বার পথ আটকায় ঝড়ের সম্মুখে।
ওগো কালবৈশাখী বিপদ থেকে মুক্ত করো আগে।
কালবৈশাখীর জানায় উন্নতির নামে,
সবুজ ধ্বংস করা হোক বন্ধ ।
জলাশয় বাঁচাও ভুলে গিয়ে দ্বিধা দ্বন্ধ।
মানুষ না ঠকিয়ে, ব্যবসার লাভ হোক সীমাবদ্ধ ।
লোভ সংবরন করো, সাধারণ মানুষের কাছে বাড়িয়ে দাও সাহায্যর হস্ত।
তোমাদের একটু একটু করে বদলাতে হবে।
কঠিন অন্ধকার শেষে, আবারও প্রভাত আসবে।
এই বলে কালবৈশাখী উড়িয়ে নিয়ে গেল,
আমার মনের মধ্যে, জমে থাকা ক্ষোভ।
হঠাৎ তন্দ্রা ভাঙতে দেখি চারপাশে
ঝড়ের চিহ্নমাত্র নেই আশেপাশে।
কে যেন আড়াল থেকে বলে,
ওটা কালবৈশাখী নয়,ওটা তোমার বিবেক।
এই কথা শুনে আমি বলি, হে অন্তর্যামী
আসুক সবার কাছে এমন এক কাল বৈশাখী।
তবেই থামবে সভ্যতার গতি।
আর শান্ত হবে এই পৃথিবী।।