গল্পেসল্পে মৃদুল শ্রীমানী

আজ আইসক্রিম দিবস
বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, আজ আইসক্রিম দিবস। ১৯৮৪ সালে এমন একটি দিনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড উইলসন রেগন ( ১৯১১ – ২০০৪) আইসক্রিম দিবস ঘোষণা করেন। রেগন ছিলেন আমেরিকার চল্লিশতম রাষ্ট্রপতি। ৬৯ বছর ৩৪৯ দিন, মানে একেবারে সত্তর ছুঁই ছুঁই বয়সে রেগন রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে আসীন ছিলেন। প্রাক্তন হলিউড অভিনেতা ও ইউনিয়ন লিডার রোনাল্ড রেগন বিপুল ভোটে দ্বিতীয়বারের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। ইলেক্টরাল কলেজের ৫৩৮টি ভোটের মধ্যে তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৫২৫। মানে রেগন ৯৭.৬% ভোট পেয়েছিলেন। এই বিপুল জনপ্রিয় রেগন ১৯৮৪তে আইসক্রিম দিবস চালু করেন। আমেরিকার নব্বই শতাংশ মানুষ আজকের দিনে আইসক্রিম দিবস উপলক্ষে হুল্লোড় করে।
আইসক্রিম জিনিসটা জানেন না, বোঝেন না, কোনোকালে দেখেননি, এমন কেউ এ পৃথিবীতে আছেন বলে মনে হয় না। ভারতে বিপুল পরিমাণ আইসক্রিম তৈরি করা হয়। তবে এই আইসক্রিমের প্রায় সবটুকুই দেশে খাওয়া হয়। রপ্তানি বিশেষ হয় না। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের লোকেরা খুব আইসক্রিম ভালবাসে। ওইসব দেশে এক একটা নাগরিক বছরে গড়ে আঠারো থেকে বিশ লিটার অবধি আইসক্রিম খেয়ে থাকেন। ব্যক্তি পিছু আইসক্রিম খাওয়ায় রেগনের আমেরিকাকে অবশ্য হারানো শক্ত। একজন আমেরিকান নাগরিক গড়ে বৎসরে তেইশ লিটার আইসক্রিম খেয়ে থাকেন।
অ্যাগনেস মার্শাল নামে এক ভদ্রমহিলাকে ইংল্যাণ্ডে কুইন অফ আইসেস বলে চেনানো হয়। আইসক্রিম নিয়ে বিস্তর গবেষণা করে লোভনীয় ও বাহারি সব আইসক্রিমের কায়দা কেতার জন্ম দিয়ে তিনি বিখ্যাত। আইসক্রিম বানানোর কায়দা কানুন নিয়ে তিনি গোটা চারেক বইও লিখেছেন। তার মধ্যে ১৮৮৫ তে লিখেছেন দি বুক অফ আইসেস, আর ১৮৯৪ তে লিখেছেন ফ্যান্সি আইসেস। এই সময়কালের আগেই ১৮৭০ সালে আইসক্রিম সোডা আবিষ্কার হয়েছিল।
ঔরঙ্গজেবকে বাদ দিয়ে বাকি সব মোগল সম্রাটরা ছিলেন চূড়ান্ত শৌখিনতা ও প্রাচুর্যে বিশ্বাসী। তাঁরা ঘোড়সওয়ার পাঠিয়ে হিন্দুকুশ পাহাড়ের থেকে বরফ আনাতেন। ওই বরফের তৈরি ঠাণ্ডা শরবত তাঁরা উপভোগ করতেন। ভারতের মাটিতে কুলপি মালাই সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। মিষ্টি দেওয়া দুধকে ঘন করে তাকে ঠাণ্ডায় জমিয়ে পেস্তাবাদাম কুচি, আখরোট কুচি কেশর গোলাপজল সহযোগে বাদশাগণ ভোগ করতেন। ইরানে ছিল ফালুদা। সেও সরু সরু সেমাইকে চিনির রসে জমিয়ে সুগন্ধি মিশিয়ে খাবার চল ছিল।
আইসক্রিম জিনিসটা জল, বরফকুচি, দুধের ঘন অংশ আর চিনি মিলিয়ে মিশিয়ে তৈরি।তাতে জল আর দুধের পরিমাণটাই বেশি।
জাপান, চীন, গ্রীক, রোমক, সকল প্রাচীন সভ্যতাতেই বরফকুচি সহযোগে মিঠে সুগন্ধি খাবারের ঐতিহ্য ছিল। এমনকি মিশরের হায়ারোগ্লিফিক্সেও আইসক্রিম জাতীয় খাবারের সন্ধান মেলে। আইসক্রিম খাবার পাত্রেরও হদিস পাওয়া গিয়েছে। পঞ্চাশ খ্রীস্টাব্দে রোমকসম্রাট নিরো ক্রীতদাসের ঘাড়ে করে বহে নিয়ে আসা বরফ, মধু ও সুরা সহযোগে স্বাদ গ্রহণ করতেন।
গরমের দিনে যতখুশি আইসক্রিম খান এবং আত্মীয় বন্ধুদের খাওয়ান। গরমের কষ্ট কমাতে আইসক্রিমের জুড়ি নেই।