ক্যাফে ধারাবাহিকে মৃদুল শ্রীমানী (পর্ব – ১১)

১০| পরমাণুর গহনে কী?

হেনরি বেকারেল ধরতে পারেন নি। তিনি শুধুমাত্র ইউরেনিয়ামের লবণে তেজস্ক্রিয় ধর্ম লক্ষ্য করেছিলেন। ইউরেনাইট বা পিচব্লেণ্ড, এবং টরবেনাইট থেকে ইউরেনিয়ম সরিয়ে নেবার পরেও যখন দেখা গেল ওগুলির তেজস্ক্রিয় বৈশিষ্ট্য হারায় না, বরং চার পাঁচ গুণ বেশি হয়ে দেখা দেয়, তখন সন্দেহ গেল মেরি কুরির। তিনি আন্দাজ করলেন যে ইউরেনিয়ম সরিয়ে নেবার পরে পিচব্লেণ্ডে এমন কিছু আছে যার তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা ইউরেনিয়মের থেকে অনেক অনেক বেশি। মেরির কেমন যেন মনে হয়েছিল ওই যে শক্তি নির্গত হচ্ছে, ওটা কোনো মলিকুল বা আণবিক পর্যায়ের রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে হচ্ছে না, বরং পদার্থের গহনে পরমাণুর ভিতর থেকে ওই শক্তি বেরিয়ে আসছে। মেরির আন্দাজটা সঠিক ছিল। পরমাণুর গহন অন্দরমহল থেকে যে শক্তি নির্গত হতে পারে, মেরির এই আন্দাজটাই বলে দিল পরমাণু কোনো অখণ্ড অভেদ‍্য অস্তিত্ব নয়, তার গভীরে ভিন্ন ভিন্ন অস্তিত্ব থাকা সম্ভব।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।