ক্যাফে ধারাবাহিকে মৃদুল শ্রীমানী (পর্ব – ৯)

৮| চিকিৎসা বিজ্ঞানে রেডিয়ম
রেডিয়মের তেজস্ক্রিয় ধর্ম দেহকোশকে পুড়িয়ে দেয়, এটা কুরি দম্পতি লক্ষ্য করেছিলেন। হেনরি বেকারেল জামার বুক পকেটে রেডিয়ম রেখেছিলেন। তাঁর বুকে পোড়া দাগ হয়ে গিয়েছিল। পিয়ের কুরি কাছে রেডিয়ম রাখতেন। তাঁর হাতে পোড়া ঘা হয়ে গিয়েছিল। রেডিয়ম দিয়ে ক্যানসার আক্রান্ত দেহকোশকে পুড়িয়ে দিয়ে রোগীকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চালিয়েছিলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। আমেরিকান জিনতত্ত্ববিৎ হারমান জোসেফ মুলার ( ২১ ডিসেম্বর ১৮৯০ – ০৫ এপ্রিল ১৯৬৭) রেডিয়ম প্রয়োগে দেহকোশের অভ্যন্তরে জিনের উপর কি প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। ১৯৪৬ সালে তিনি মেডিসিনে নোবেল সম্মান লাভ করেন। অনিয়ন্ত্রিত তেজস্ক্রিয়তা কিভাবে সভ্যতাকে বিপন্ন করতে পারে তা নিয়ে তিনি বিশ্ববাসীকে সচেতন করে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এই কাজের স্বীকৃতিতে মুলারকে ১৯৬৩ সালে আমেরিকার মানবাধিকার সংগঠন বর্ষসেরা মানবতাবাদী সম্মান অর্পণ করেন। রেডিয়ম ও তার তেজস্ক্রিয় ধর্ম জীবশরীরে কী প্রভাব বিস্তার করে, তা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন ড্যানিয়েল ম্যাকডুগাল ও টমাস হান্ট মরগান। আর রেডিয়মকে সোৎসাহে ক্যানসারের চিকিৎসা সেবা দিতে ব্যবহার করেছিলেন
আমেরিকার মেরিল্যান্ড, বালটিমোরের জনস হপকিন্স হাসপাতালের বিশ্বখ্যাত স্ত্রীরোগবিদ ও ধাত্রীবিদ চিকিৎসক হাওয়ার্ড অ্যাটউড কেলি ( ২০ ফেব্রুয়ারি ১৮৫৮ – ১২ জানুয়ারি ১৯৪৩)। তিনি ১৯০৪ সালে নিজের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ার চিকিৎসায় রেডিয়ম প্রয়োগ করেছিলেন। তবে ক্রমেই প্রমাণিত হয়েছিল যে রেডিয়মের তীব্র তেজস্ক্রিয়তা চিকিৎসা পরিষেবায় মাত্রাছাড়া আকার নিয়ে বিপর্যয় ডেকে আনে।
পরবর্তীকালে প্রমিথিয়াম ১৪৭, ট্রিটিয়াম, এবং সাম্প্রতিক সময়ে কোবাল্ট ৬০, সিজিয়াম ১৩৭ তুলনামূলক ভাবে অনেক নিরাপদ তেজস্ক্রিয় পদার্থ হিসেবে ক্যানসারের চিকিৎসা সেবা দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।