জন্ম- ১৯৬৭, বরানগর।
বর্তমানে দার্জিলিং জেলার মিরিক মহকুমার উপশাসক ও উপসমাহর্তা পদে আসীন।
চাকরীসূত্রে ও দৈনন্দিন কাজের অভিজ্ঞতায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের সমস্যা সমাধানে তাঁর লেখনী সোচ্চার।
ডাক্তার আর্চিবল্ড ক্যাম্পবেল আর দার্জিলিং
ছুটির দিনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর সঙ্গী হয়ে পুলিশ সুপার মহাশয়ের বাড়ি গেলাম। আপ্যায়নের পর বাংলোর বাগানে দাঁড়িয়ে সুপার সাহেব বললেন ক্যাম্পবেল এর কথা। ছিলেন চিকিৎসক। নেপালের নামকরা ডাক্তার। তাঁকে দার্জিলিংয়ের পুলিশ সুপারের চেয়ারে বসিয়ে দিলেন ব্রিটিশ প্রশাসন। তিনি গড়ে তুললেন দার্জিলিং শহর।
ক্যাম্পবেল সাহেবের চেয়ারের বর্তমান উত্তরাধিকারীর দিকে চেয়ে বললাম, কলকাতার নীলরতন সরকার হাসপাতালের নাম আগে ছিল ক্যাম্পবেল হসপিটাল। এই কি সেই ক্যাম্পবেল?
তখুনি মীমাংসা হল না যদিও, ঘরে ফিরে জানলাম ক্যাম্পবেল সাহেব দার্জিলিং এ চা আর সিঙ্কোনা চাষের প্রচলন করেন। বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসাসম্পন্ন চিকিৎসক ক্যাম্পবেল ভেষজগুণসম্পন্ন উদ্ভিদ ছাড়াও নানাবিধ জাগতিক ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন। এঁকে স্মরণ করেই ১৮৭৩ এর ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত শিয়ালদহের চিকিৎসা শিক্ষা বিদ্যালয় ১৮৮৪ সালে ক্যাম্পবেল মেডিক্যাল বিদ্যালয় হয়ে উঠল। দশ বৎসর পর ১৮৯৪ সালে হয়ে গেল ক্যাম্পবেল মেডিক্যাল কলেজ। ম্যাগনোলিয়া প্রজাতির একটি উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামেও তিনি স্মৃতি হয়ে আছেন। উদ্ভিদটির নাম ম্যাগনোলিয়া ক্যাম্পবেলি (ছবি দিলাম)। ভিষকাচার্য হয়ে সঞ্জীবিত আছেন নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের মটোতেও; লেখা আছে विश्व नी अस्वु भैषज्ञन ।
বিদ্বান সর্বত্র পূজ্যতে।
২
আর্চিবল্ড ক্যাম্পবেল ( ২০ এপ্রিল ১৮০৫ – ৫ নভেম্বর ১৮৭৪)। এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম ডি ডিগ্রি নিয়ে বাইশ বছরের তরুণ ক্যাম্পবেল যোগ দেন ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির চাকরিতে। ১৮৩২ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে চিকিৎসা সেবায় যুক্ত। ১৮৪০ সালে দার্জিলিং জেলার সুপারিনটেনডেন্ট। তাঁর উৎসাহে গড়ে উঠল শহর। তিনি দায়িত্ব নেবার আগে ১৮৩৯ সালে দার্জিলিংয়ের জনসংখ্যা ছিল ১০০। দশটি বছরে সেই জনসংখ্যা ১৮৪৯ সালে হল দশহাজার।
প্রকৃত জ্ঞানভিক্ষু ছিলেন তিনি। সফল ডাক্তার, সফল পুলিশ সুপার, এর পাশাপাশি উদ্ভিদ বিদ্যা, কৃষি অর্থনীতি, গাছের ছাল থেকে কাগজ শিল্পের সম্ভাবনা, ঝড় বৃষ্টি বাতাসের গতি নিয়ে গবেষণা, কুকুর ষাঁড় বাইসন ও হাতির অসুখ বিসুখ নিয়ে সিরিয়াস চর্চার পাশাপাশি তামা ও চুনাপাথরের আকরিকের সন্ধান, হিমালয়ের নানা চূড়ার তথ্য, উপজাতিদের কথা, তাদের বাদ্যযন্ত্র, ইত্যাদি কত না বিষয়ে বই লিখেছেন তিনি।
১৮৪০ থেকে ১৮৬২ সালের ফেব্রুয়ারির আট তারিখ অবধি দার্জিলিং জেলার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন আর্চিবল্ড ক্যাম্পবেল। জ্ঞানতাপসের স্মৃতির উদ্দেশে গভীর শ্রদ্ধা জানাই।