শ্যামলী আবদার করে বলল, আমি চা করব। অনসূয়া বললেন, যা করবে চটপট করো। কলেজ যেতে হবে। দামি পেয়ালায় চামচ নাড়ার শব্দ উঠছে। অরিন্দম তন্ময় হয়ে তাকিয়ে আছেন সেই দিকে। শ্যামলী বলল, কি দেখছেন বলুন তো?
একটুও অপ্রস্তুত না হয়ে অরিন্দম বললেন, তোমাকে।
অনসূয়া বললেন, জানিস্, কাল বেশি রাতে ও আমাকে ফোন করে বলল, অনু জানিস্, সর্বনাশ হয়ে গেছে। এমন করে বলছিল যেন ওর হৃৎপিণ্ডটা বুক থেকে খুলে মাটিতে পড়ে গেছে।
অরিন্দম বললেন, তা টেনশন হবে না? আমাকে রমানাথ বলল যে, ওর মা শ্যামলীকে গালমন্দ করেছেন বলে কাঁদতে কাঁদতে শ্যামলী কোথায় চলে গেছে। তখন অতরাতে ও ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিল।
শ্যামলী বলল, মোটেও না, আমি কাঁদতে কাঁদতে মোটেও বেরিয়ে যাই নি।
তাকে ভেঙিয়ে অনসূয়া বললেন, সত্যিই তো তুমি কাঁদতে কাঁদতে বেরোতেই পার না। তুমি হো হো হা হা হি হি করতে করতে দৌড়ে যাচ্ছিলে। এবার ওঠো বিদ্যেধরী, টয়লেটে যাও, কলেজ যেতে হবে।
শ্যামলী টয়লেটে যেতে যেতে শুনতে পেল অরিন্দম বলছেন, অনু, তোকে আজ খুব আদর করতে ইচ্ছে করছে।