ক্যাফে ধারাবাহিকে মৃদুল শ্রীমানী (পর্ব – ৪)

আলো কণা না তরঙ্গ?
ডালটনের অনেক আগে ১৭০৪ খ্রিস্টাব্দে অপটিকস নামে গ্রন্থ প্রকাশ করে আলোকে অতীব ক্ষুদ্র ও সূক্ষ্ম কণার ধারা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন মহাবিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন ( ৪ জানুয়ারি ১৬৪৩ – ৩১ মার্চ ১৭২৭)। আলোর একটি কণাতত্ত্ব গড়ে উঠেছিল। তাতে বলা হয়েছিল, আলো সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম বিচ্ছিন্ন কণার সমবায়ে গঠিত, যা সরলরেখায় চলে, যার একটা সুনির্দিষ্ট গতিবেগ রয়েছে আর একটা ধাক্কা দেবার ক্ষমতাও আছে।
নিউটনের থেকে বয়সে বছর চৌদ্দ বড় ক্রিশ্চিয়ান হাইগেনস ( ১৪ এপ্রিল ১৬২৯ – ৮ জুলাই ১৬৯৫) কিন্তু অন্য কথা বলছিলেন। ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দ থেকে তিনি আলো ও লেন্স নিয়ে চর্চা করতে করতে যা লিখেছিলেন, তা ডাইঅপট্রিকা নামে গ্রন্থবদ্ধ করবেন ভেবে রেখেছিলেন। হাইগেনস এর জীবদ্দশায় তা আর হয়ে ওঠেনি। তবে ১৬৯০ সালে তাঁর একষট্টি বৎসর বয়সে ট্রাইট দে লা লুমিয়ে ( ট্রিটিজ অন লাইট) নামে বই বেরোয়।
হাইগেনস আলোকে তরঙ্গ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। কিন্তু সমসময়ে নিউটনের কণাতত্ত্ব লোকে গ্রহণ করেছিল, হাইগেনস এর তত্ত্ব হালে পানি পায় নি।
পরে অবশ্য টমাস ইয়ং (১৩ জুন ১৭৭৩ – ১০ মে ১৮২৯) এবং অগাস্টিন জাঁ ফ্রেসনেল ( ১০ মে ১৭৮৮৮ – ১৪ জুলাই ১৮২৭) সুনির্দিষ্ট ভাবে প্রমাণ করে দিয়েছেন নিউটন সাহেবের আলোর কণাতত্ত্ব একটি ভ্রান্ত ধারণা।