পর্ব – ১৮৬
ক্লাস শেষের ঘণ্টা পড়লে শিক্ষক করবী মিত্র বেরিয়ে গেলেন। ওঁকে একটু এড়িয়ে মিনিট কয়েক পরে আগের ক্লাস ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া মেয়েরা ঢুকে পড়ল।
একটি মেয়ে বেশ গলা চড়িয়ে বলল, এবারের স্ট্যাটিসটিকসের পেপারে কোশ্চেন আসছে, সল্ট এস্টিমেট সম্বন্ধে যাহা জান নিজের ভাষায় লিখ। কুড়ি নম্বরের কোশ্চেন।
আরেকটি মেয়ে বলল, আরেকটা কোশ্চেন আসবে ট্যাকসি নম্বর নিয়ে। ট্যাকসি নম্বর কি? কেন একে ট্যাকসি নম্বর বলা হল?
একটি মেয়ে বলল, ম্যাথস অনার্সের থার্ড ইয়ারের ক্লাসে এত গল্পের রঙঢঙ কেন বোঝা যায় না। অঙ্ক শেখাও, যে রকম কোশ্চেন আসতে পারে, তার কিছু আইডিয়া দাও। মিটে গেল। সিলেবাসের বাইরে ফালতু গল্পগুজব শোনবার জন্যে কি এই শীতের সকালে কলেজে এসেছি?
শ্যামলী মাথা নিচু করে বই পড়ে চলেছে। তার কানে সমস্ত কিছুই আসছে। কিন্তু সে অপমান গায়ে মাখতে চাইছে না।
একটি মেয়ে বলল, ওরে তোদের বিরাট সৌভাগ্য যে আগামী দিনের গণিতে নোবেল জয়ী বিজ্ঞানীর সঙ্গে একসাথে ক্লাস করার সুযোগ পাচ্ছিস। বুড়ি হয়ে গেলে নাতি নাতনিকে বলতে পারবি, এক মহান গণিতবিদের সাথে আমরা একই সাথে ক্লাস করেছি জানিস?
অন্য একটি মেয়ে বলল, দ্যাখো শোভনা, সবার বাবার তো আর গাড়ির গ্যারাজের ব্যবসা নেই যে ঠকাঠক হাতুড়ি পিটে পয়সা রোজগার করতে পারবে! জানো তো ভাই, আমার বাবা বলেই দিয়েছেন, ডব্লিউ বিসি এস যদি ক্লিয়ার করতে না পারো, নিজেকে আমার মেয়ে বলে পরিচয় দিও না। আমার তো ভাই গালগল্প শুনে সময় কাটালে চলবে না।
শোভনা উত্তরে বলল, রণিতা, দ্যাখ ভাই, ওঁর সম্বন্ধে ও রকম করে বলিস নি। দেখছিস না, উনি এখনই কলেজের টিচার্স রুমে গিয়ে টিচারদের ক্লাস নিচ্ছেন। গতকালই উনি ওখানে শ্রীনিবাস রামানুজনের সঙ্গে প্রশান্ত মহলানবীশের গণিত চর্চা নিয়ে লেকচার দিয়েছেন। আজ এখানে সল্ট এস্টিমেট পড়ালেন। আগামী দিনে উনি নির্ঘাত এডুকেশন মিনিস্টার হয়ে গণিতের সিলেবাস বদলে দেবেন।
একটি মেয়ে বলল, চলো আজ আমরা প্রিন্সিপাল ম্যামের কাছে সবাই মিলে অভিযোগ করব, এই কলেজে ম্যাথস পড়ার জন্য ভরতি হয়েছি। মাইনেও দিই। খামোখা গল্প শোনানোর জন্য আসি নি। আপনাকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে হবে।
চন্দনা নামে একটি মেয়ে বলল, শাস্তি দিয়ে কচু করতে পারবে তোমরা। বিরাট ব্যবসায়ী পরিবারের একলৌতা বেটার সঙ্গে ওঁর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
সব মেয়েরা বলল, ব্যবসায়ী পরিবার? কিসের ব্যবসা শুনি?
চন্দনা বলল, তাহলে গোণো, এক নম্বর হল ছেলের বাবার দু দুটো কালি মন্দির। সন্ধ্যা বেলা এক মহিলার ভর হয়। ভবিষ্যৎ বলেন। প্রচুর পরিমাণে দক্ষিণা আদায় হয়। অমাবস্যা আর শনিবারে স্পেশাল পূজা ও যজ্ঞ করিয়া ভৌমদোষ, স্বামী স্ত্রী অশান্তি অবনিবনা প্রতিকার করা হয়।
দ্বিতীয়, রিকশা। শহরের বুকে যত রিকশা চলে, তার অর্ধেক এই ব্যবসায়ী পরিবারের। সন্ধ্যায় মদ খেয়ে টলটলায়মান রিকশাওয়ালার গলায় গামছা দিয়ে টাকা আদায় করা হয়। তৃতীয় ব্যবসা হল বাঁশ। এই শহরে যত বিয়ে বাড়ি আর শ্রাদ্ধ বাড়িতে বাঁশের ম্যারাপ হয়, সমস্ত বাঁশের সাপ্লাই দেন এই ব্যবসায়ী পরিবার। যাহোক এমন পাত্র পেলে, বিয়ের আগেই চুমু খেলে।
শ্যামলী আর পারল না। বেঞ্চে মাথা ঠেকিয়ে মুখটা আড়াল করল।
এমন সময় দলবল নিয়ে ক্লাসে ঢুকে পড়লেন হিরণ দাশগুপ্ত। বয়স ত্রিশের ধারে পাশে। পরণে ফিনফিনে ধবধবে আদ্দির পাটভাঙা চোস্ত্ পাঞ্জাবি । পায়ে শৌখিন শুঁড়তোলা নাগরা জুতো। একটা দামি কাশ্মীরী শাল নিয়েছেন আলগোছে। সেটা শীত আটকানোর জন্য ততটা নয়। যতটা দেখনদারির জন্য। আর গলায় সোনার চেন। হিরণ দাশগুপ্ত থানা এলাকার ছাত্র পরিষদের প্রেসিডেন্ট।
সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বকালীন তাঁর মন্ত্রিসভার এক মন্ত্রী মশায়ের ভাগ্নে হিরণ। বাম জমানাতেও বোলবোলাও কমে নি। অনেকেই বলেন, ক্ষমতায় এসে দুই যুযুধান পক্ষের ভিতরে ভিতরে একটা বোঝাপড়া আছে। এই থানা এলাকায় যাঁরা বোঝাপড়া বজায় রাখেন, হিরণ তাঁদের ঘরের লোক। তাই থানা পুলিশ প্রশাসন সহ ক্ষমতার ভরকেন্দ্রের সঙ্গে হিরণের সম্পর্ক খুব সাবলীল।
দলবল নিয়ে হিরণ ঘরে ঢুকে বললেন, তোমাদের কলেজে সব সময় আসার সুযোগ আমার হয় না। কিন্তু তোমরা জানো, আমাদের মহীয়সী মা ইন্দিরা গান্ধীর মহাপ্রয়াণ হয়েছে। তাই আজ আমরা স্থানীয় সব কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে তোমাদের কলেজের অডিটোরিয়ামে শোকসভা করছি। তোমরা সবাই হাজির থাকবে। কি শ্যামলী, তুমি অতি অবশ্যই থাকবে। আর আজ তুমি ওই শোকসভায় বক্তব্য রাখবে।
সকল ছাত্রী বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নাড়ল। শ্যামলী উঠে বলল, আমার কিছু কাজ আছে। আমি তো সময় দিতে পারব না।
হিরণ বললেন, আজ ও কথা শুনব না। তুমি ভাষণ দেবে। এ তল্লাটে তোমার মত বক্তব্য কেউ রাখতে পারে না। এমনকি আমিও নই। রিপোর্টার দের বলে রেখেছি। সময়ের আগেই হাজির হয়ে যাবে সবাই। এটুকু বলে হিরণ বেরিয়ে পড়ার উদ্যোগ নিতেই শ্যামলী বলল, হিরণবাবু শুনুন…. হিরণ জিজ্ঞাসুমুখে ফিরে তাকালেন, ছাত্র ছাত্রীরা কেউ তাকে হিরণবাবু বলে না, তিনি সকলেরই দাদা, ছাত্র কংগ্রেসে এটাই কর্মীদের তরফে নেতাদের প্রতি সম্ভাষণের সর্বমান্য পদ্ধতি।
শ্যামলী বলল, দেখুন বক্তা পছন্দ করতে আপনার ভুল হচ্ছে।
হিরণ ভ্রূ কুঁচকে বললেন, কেন? তোমার ডিবেট আমি সরাসরি না শুনলেও বর্ণনা শুনেছি। বড় পার্লামেন্টারিয়ান হবার এলেম আছে তোমার। তুমি আজ আমাদের শোকসভায় অতি অবশ্যই বলছ।
শ্যামলী দৃঢ়স্বরে বলল, না, মোটেও আমি কিছু বলছি না। প্রয়াত মানুষের প্রতি প্রকাশ্যে নিন্দা করাটা অসৌজন্যমূলক। সে আমি পারব না।
হিরণ যেন অত্যন্ত অবাক হয়েছেন এভাবে শ্যামলীর দিকে তাকিয়ে বললেন, প্রকাশ্যে নিন্দা? তা ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকারীদের নিন্দা তো করতেই হবে।
শ্যামলী বলল, আমি সাধারণ নিরপরাধ শিখজনতার উপর আক্রমণ নামিয়ে আনার তীব্র প্রতিবাদ করছি। কিন্তু আপনার সভায় দাঁড়িয়ে মৃত মানুষের প্রতি ধিক্কার জানানো আমার শিষ্টাচারের পরিপন্থী। তা আমি করব না।
হিরণ খুব ধীরে ধীরে বললেন, তোমার ব্যাপারটা তাহলে রাজনৈতিক?
শ্যামলী বলল হ্যাঁ, ব্যক্তি শ্রীমতী গান্ধী নিজের বাড়িতে নিজের বিশ্বস্ত দেহরক্ষীদের হাতে গুলিতে নিহত, এই হত্যাকাণ্ডের আমি নিন্দা করি। সাথে সাথে এক নিঃশ্বাসে আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রশ্নে আমি ওঁর চূড়ান্ত বিরোধী। দয়া করে এই শোকের আবহে সত্য উচ্চারণের দায়ে আমায় সে সব বলতে বাধ্য করবেন না।
হিরণ যেন মজার একটা কথা শুনলেন এমন ভঙ্গি করে বললেন, ঠিক আছে, তোমার ছুটি। কিন্তু আর সকলের আসা চাই। আমার সঙ্গে দেখা না করে কেউ বাড়ি যাবে না। আর শ্যামলী, তোমার ব্যাপারটা আমরা রাজনৈতিক ভাবেই দেখব।
শ্যামলী সামান্য একটু হাসল। গোটা ক্লাস স্তব্ধ হয়ে রইল। যেন তারা অত্যন্ত অভাবনীয় কিছু একটা প্রত্যক্ষ করেছে।
সমস্ত ক্লাস থম মেরে আছে। এমন সময় পরবর্তী গণিত ক্লাসের শিক্ষক ঢুকলেন। তিনি বললেন, আজ আমি ম্যাথমেটিক্যাল মডেলিং দিয়ে কিভাবে অ্যাটমিক ওয়েস্ট ডিসপোজাল করা যেতে পারে তা নিয়ে ক্লাস করব। অ্যাটমিক ওয়েস্ট কাকে বলে কেউ জান?
একটি মেয়ে বলল, আণবিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে গিয়ে যে জঞ্জাল তৈরি হয়, তাকে অ্যাটমিক ওয়েস্ট ডিসপোজাল বলে। স্যরি, অ্যাটমিক ওয়েস্ট বলে।
আর কেউ কিছু বলবে? ওর উত্তরটা ক্লাস ফাইভের বাচ্চাদের মতো হয়েছে। গোটা ক্লাস চুপ।
শিক্ষক শ্যামলীকে বলতে বললে, সে বলল, বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে গিয়ে, অথবা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালাতে গিয়ে, অথবা নিউক্লিয়ার মেডিসিন তৈরি করতে গিয়ে তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিয়ে কাজ করতে হয়। তাতে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য তৈরি হয়। ইউরেনিয়াম, প্লুটোনিয়াম এমন সব তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে পরিবেশে ক্ষতিকর বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ে জনস্বাস্থ্য বিপন্ন হতে পারে। কিছু কিছু তেজস্ক্রিয় পদার্থের অর্ধজীবন অনেক দিনের। দশ হাজার বছর থেকে দশলক্ষ বছর পর্যন্ত পরিবেশে বিকিরণ ছড়াতে পারে এরা। তাই নানা রকম ভাবনা ভাবা হয়েছে। সমুদ্রের গভীরতম তলে নামিয়ে দেওয়া, মাটিতে অতি গভীর গর্তে পুঁতে দেওয়া, এমন কি সূর্যের ভিতর পৌঁছে দেওয়া সহ নানা রকম ভাবনা আছে, যার বাস্তব সমস্যা ও অর্থব্যয় নিয়ে গাণিতিক মডেলিং করা দরকার।
শ্যামলীকে প্রশংসা করে সিলেবাসের পড়ার মধ্যে ঢুকতে যাবেন, এমন সময় কয়েকটি অন্য ক্লাসের মেয়ে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ে বলল, ম্যাডাম, আমরা স্টুডেন্ট ফেডারেশন করি। যদি আজ আপনি একটু তাড়াতাড়ি ক্লাস শেষ করে দেন, তাহলে আমরা এদের কাছে একটা কথা বলতাম।
বিরক্ত বোধ করে শিক্ষক বেরিয়ে যেতে প্রচারক দলের নেতৃস্থানীয়া একটি মেয়ে বলল, তোমরা পারমাণবিক জঞ্জাল নিয়ে পড়ছিলে তাই না? শ্যামলী, তুই খুব সুন্দর বলছিলি। তুই অবশ্য সব সময়ই ভাল বলতে পারিস। তবে এই পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা রুখতে মহান লেনিন স্ট্যালিনের নেতৃত্বে যে সোভিয়েত বিপ্লব হয়েছিল, শ্রমিক কৃষকের মৈত্রীর মাধ্যমে বিশ্বশান্তি অর্জনের যে প্রক্রিয়া চালু হয়েছিল, আগামীকাল তার
সাতষট্টিতম বর্ষ। এই উপলক্ষে আগামীকাল সাত নভেম্বর থেকে সতের এই দশদিন ধরে….
শ্যামলী বলল, সাত থেকে শুরু করে সতের অবধি?
নেত্রী হাসিমুখে বললেন, হ্যাঁ। এই দশদিন ধরে…
শ্যামলী আবার বলল, সাত থেকে শুরু করে সতের অবধি তো দশ হয় না!
নেত্রী বললেন, কেন হবে না, জন রীডের “দুনিয়া কাঁপানো দশদিন” পড়োনি তুমি, তাই না?
শ্যামলী বলল, সাত থেকে শুরু করে সতের অবধি দশ হয় না, এগারো হয়। গুণে দেখুন।
নেত্রী জোর করে মুখে হাসি ফুটিয়ে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এমন সময় শ্যামলী বলল, সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্ব সাধারণ মানুষের শিক্ষার সুযোগ গড়তে প্রাণপাত করত। আর আপনারা তা নিয়ে বলতে এসে আমাদের ক্লাস বন্ধ করে দিলেন।
নেত্রী বললেন, তোমরা তো পারমাণবিক সমস্যা নিয়ে সবাই জানো। আর বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রই পরমাণু শক্তিকে শান্তির পথে চালনার গ্যারান্টি।
শ্যামলী বলল, আজকের দিনটা পরমাণু বিস্ফোরণ কর্মসূচির ইতিহাসে একটা বিরাট তাৎপর্যপূর্ণ দিন, এটা আপনি জানেন?
নেত্রীর মুখে আর হাসি নেই। তিনি শ্যামলীর শান্ত প্রতিরোধের মুখে বিপন্ন বোধ করছেন।
শ্যামলী বলল, আপনি “কান্নিকিন” কি জিনিস জানেন? “আমচিটকা” কোথায় জানেন?
নেত্রী রুমাল নিয়ে মুখ মুছলেন। বললেন, তুমি বলে দাও।
শ্যামলী বলল, ১৯৭১ সালে ছয় নভেম্বর, আজকের মত একটা দিনে আলাস্কার আমচিটকা দ্বীপে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটমিক এনার্জি কমিশন মাটির অনেক গভীরে পৌনে দুই কিলোমিটারেরও বেশি গভীরে একটা বিপুল ক্ষমতাসম্পন্ন হাইড্রোজেন বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল।
আমেরিকার হাজার হাজার শান্তিপ্রিয় ভদ্র সচেতন নাগরিক আমেরিকার অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের এই পরমাণুবিস্ফোরণ কর্মসূচির বিরুদ্ধে পথে নামে। শান্তিপূর্ণ অবরোধ করে। এমনকি একটা জাহাজ যোগাড় করে অকুস্থলে গিয়ে বাধা দেবার জন্য জলে ভেসে পড়ে। জাহাজের নাম তারা দিয়েছিল গ্রিনপিস।
কান্নিকিন হাইড্রোজেন বোমাটা সাংঘাতিক ক্ষমতাসম্পন্ন ছিল। হিরোশিমায় যে লিটলবয় নামে বোমাটা ফেলা হয়েছিল, কান্নিকিন তার থেকে তিনশো পঁচাশিগুণ বেশি বিধ্বংসী ক্ষমতাসম্পন্ন ছিল। পাঁচ মেগাটন টিএনটির সমান বিস্ফোরণের ক্ষমতা ছিল ওর।
আমেরিকার সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এই পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে পথে নেমে বলেছিলেন, ডোন্ট মেক এ ওয়েভ। এইভাবে মাটির অত গভীরে অত বিধ্বংসী বোমা ফাটালে ভূমিকম্প ও সুনামি হতে পারে। তারা অ্যান্টি নিউক্লিয়ার কমিটি ফর নিউক্লিয়ার রেসপনসিবিলিটি নাম দিয়ে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে মামলা আনে। মোট সাতজন বিচারপতির বেঞ্চে চারজন সরকারকে সমর্থন করেন। বাকি তিনজন আন্দোলনকারীদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট নাগরিকের অধিকারের পাশে দাঁড়ায় নি। শান্তির আসল গ্যারান্টি নাগরিকের সচেতনতায়। আমেরিকার ভিতরেও নানাবিধ শক্তি নিয়ত লড়াই করে চলেছে। আমেরিকাতেও একই সাথে পরস্পর বিরোধী শক্তি কাজ করে চলবে, এটা স্বীকার করতে হবে।
নেত্রীর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
ক্রমশ…