ক্যাফে ধারাবাহিকে মৃদুল শ্রীমানী (পর্ব – ১৮)

সহজ কথায়, নিলস বোরের পরমাণু মডেল আত্মপ্রকাশ করার পরে পরেই বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ল। বোরের পরমাণু মডেল জীম্যান এফেক্টকে ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হল। একটি পরমাণুর বর্ণালির উপর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে যে পরিবর্তন দেখা যায়, তাকে জীম্যান এফেক্ট বলে। আরও বলার কথা যে, এই মডেল স্টার্ক এফেক্টকেও ব্যাখ্যা করতে পারল না। পরমাণুর বর্ণালির উপর বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের প্রভাবে যে পরিবর্তন দেখা যায়, তাকে স্টার্ক এফেক্ট বলে।
আর বড় বড় পরমাণুর যে বর্ণালি, তার বিন্যাস বৈশিষ্ট্যও বোরের মডেল ব্যাখ্যা করতে পারল না।
স্টার্ক এফেক্ট আবিষ্কার করেছিলেন জার্মান পদার্থবিদ জোহানস স্টার্ক ( ১৫ এপ্রিল ১৮৭৪- ২১ জুন ১৯৫৭)। সেটা ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ। আবার একজন ইতালিয়ান পদার্থবিদ আন্তোনিনো লো সুরদো ( ৪ ফেব্রুয়ারি ১৮৮০ – ৭ জুন ১৯৪৯) স্বাধীনভাবে একই সময়ে এই এফেক্ট আবিষ্কার করেছেন। যাই হোক, এই এফেক্ট আবিষ্কার হতে কোয়ান্টাম তত্ত্বের বিকাশের আরো কয়েকটি দরজা খুলে গিয়েছিল। তাঁর এই অবদানের জন্য স্টার্ক ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।
আর বেশ কয়েকটি বছর আগে ১৮৯৬ তে ডাচ পদার্থবিজ্ঞানী পিটার জীম্যান ( ২৫ মে ১৮৬৫ – ৯ অক্টোবর ১৯৪৩) জীম্যান এফেক্ট আবিষ্কার করেন এবং এই কৃতিত্বের জন্য ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।
এখন, জীম্যান এফেক্ট আর স্টার্ক এফেক্ট, দুটোর কোনটারই সদুত্তর দিতে না পেরে বোরের পরমাণু মডেল যখন নিরুপায় হয়ে পড়ছে, তখন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলেন জার্মান তাত্ত্বিক পদার্থবিদ আর্নল্ড সমারফেল্ড ( ৫ ডিসেম্বর ১৮৬৮ – ২৬ এপ্রিল ১৯৫১)। সমারফেল্ড বললেন, পরমাণুর ইলেকট্রনগুলি নিউক্লিয়াসকে ঘিরে বৃত্তাকার পথে ঘুরছে না। তারা উপবৃত্তাকার পথে ঘুরছে। কিন্তু বোর – সমারফেল্ড মডেলের ভিতরে বহু দুর্বলতা ছিল। তাও প্রকাশ্যে এসে গেল।