সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে মৃদুল শ্রীমানী (পর্ব – ১৭)

অথচ লুইস লিঙ এর পক্ষে সাক্ষীরা আদালতে হলফ করে বলেছিলেন যে ঘটনা ঘটার দিনে তিনি হে মার্কেটের অকুস্থল থেকে এক মাইল দূরে ছিলেন। সাক্ষীরা এও বলেছিলেন যে, যাঁদের বিরুদ্ধে বোমা হামলার চার্জ আনা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে কেউই বোমাটি ছোঁড়েন নি। বোমা যখন ফাটল, তখনো অগাস্ট স্পিজ গাড়ির মাথায়, অর্থাৎ যেটা ছিল স্টেজ, সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন। যাই হোক কোর্টের জুরিরা ১৮৮৬ র ২০ আগস্ট তাঁদের মতামত দিয়েছিলেন। জুরিরা তাঁদের বিচারে আটজন অভিযুক্তকেই দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন, এবং তাদের মধ্যে সাতজনকেই প্রাণদণ্ডের আদেশ দিলেন। শুধু ঘটনাস্থলে একবারও না যাওয়া অস্কার নিবিকে পনেরো বছর মেয়াদী কঠোর সশ্রম কারাদণ্ড দিলেন।
।। ডিনামাইট।।
হে মার্কেটে চার মে রাত দশটার পরে বোমা বিস্ফোরণের কথায় ডিনামাইটের কথা আসবে। যদিও হে মার্কেটের সভায় অগাস্ট স্পিজ এবং অ্যালবার্ট পারসনস দুজনেই বারবার করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রতিবাদের কথা বলেছিলেন, তথাপি ডিনামাইট দিয়ে তৈরি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। একটা ভঙ্গুর ধাতব আধারে ডিনামাইট ভরে তা ছুঁড়ে ছিল কেউ। কিন্তু কে যে ওই কাজটা করেছিল, আদালতের সামনে তা সুনিশ্চিত ভাবে প্রমাণিত হয় নি।
কিন্তু চরমপন্থী শ্রমিক নেতাকর্মীদের অত্যুৎসাহী অংশটি প্রকাশ্যেই পুঁজি মালিকদের সঙ্গে লড়াইয়ে ডিনামাইটের গুণগ্রাহী ছিলেন। তাঁরা বলতেন, ডিনামাইট ছুঁড়ে সমস্ত অসাম্য আর অন্যায়ের সৌধ গুঁড়িয়ে সমান করে দেবেন। বিখ্যাত শ্রমিক সংগঠক লুসি পারসনস বলতেন, “ডিনামাইট হল সেই ভাষা, যা অত্যাচারীদের কানের ভিতর দিয়ে মগজে ঢুকিয়ে দেওয়া যায়।” শ্রমিক নেতা অগাস্ট স্পিজ একদা এক সাংবাদিকের হাতে ডিনামাইট বোমার শূন্য ধাতব খোল ধরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, “যাও, এটা নিয়ে তোমার মালিককে দেখিয়ে বলো যে, আমাদের কাছে এমন নয় হাজারটা বোমা রয়েছে।” তবে অনেক শ্রমিকনেতাই ডিনামাইট নিয়ে বাগাড়ম্বর করতেন। কিন্তু ডিনামাইটের ব্যাপার স্যাপার সত্যি সত্যি বুঝতেন লুইস লিঙ, তরুণ কাষ্ঠশিল্পী বা ছুতোরমিস্ত্রিটি। তিনি ডিনামাইট যোগে সাংঘাতিক ধাঁচের বোমা তৈরির কৌশল আয়ত্ত্ব করেছিলেন। এছাড়া তিনি বন্দুকের গুলি ছোঁড়াও নিয়মিত অভ্যাস করে আয়ত্ত্ব করেছিলেন।