সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে মৃদুল শ্রীমানী (পর্ব – ২)

মজুর, মার্ক্স ও মে দিবস

২|
মার্ক্সের জীবৎকালেই গরিবদের তরফে শাসনভার ছিনিয়ে নেবার ঘটনা ঘটে গেল। সময়টা ১৮৭১। প্রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলছে ফ্রান্সের। এরই মধ‍্যে ফ্রান্সের সেনাবাহিনীর একাংশের মধ‍্যে শ্রমিকশ্রেণির বৈপ্লবিক চিন্তাভাবনা নাড়া দিয়েছে।
১৮৭১ সালের মার্চ নাগাদ জার্মান সেনাবাহিনীর হাতে ফরাসি সেনাবাহিনী সম্পূর্ণভাবে পর্যুদস্ত হয়ে গেল।
এই সময়ের আগেই ফ্রান্সের গরিব মানুষের মধ্যে ফরাসি সরকার ও প্রশাসনের প্রতি তীব্র ঘৃণা গড়ে উঠেছিল। লুইস চার্লস দেলেসক্লুজ, জারোস্লাভ ডাব্রোওস্কি, ইউজিন ভারলিন প্রমুখ বিপ্লবীর নেতৃত্বে ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে প‍্যারিসে সাধারণ মানুষের নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়। ওই হল পারী কমিউন। এটা বেশিদিন টেঁকে নি। ১৮ মার্চ ১৮৭১ প্রতিষ্ঠা হয়ে দুই মাস এক সপ্তাহ তিনদিন পর, ২৮ মে তারিখে পারী কমিউন ধ্বংস হয়ে যায়। জাতীয়তাবাদী ফরাসি সেনাবাহিনী কমিউনের সংগ্রামীদের ভয়াবহ ভাবে আক্রমণ করে। ২১ মে সেই আক্রমণ শাণিয়েছিল ফরাসি জাতীয়তাবাদী সেনাবাহিনী। এক সপ্তাহ ধরে প্রায় পনেরো হাজার মানুষকে খুন করে এই বাহিনী ইতিহাসের চাকা উলটো দিকে ঘুরিয়ে দিল।
তবু দুই মাস এক সপ্তাহ তিনদিন সময়সীমার মধ‍্যেই পারী কমিউন বিস্তর জনদরদী প্রগতিশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। ধর্মীয় ব‍্যবস্থাকে কোণঠাসা করে দিয়ে সোশ্যাল ডেমোক্র‍্যাসি প্রতিষ্ঠা করেছিল। রাষ্ট্রের সঙ্গে চার্চের সম্পূর্ণ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিয়েছিল। শিশুশ্রম বন্ধ করেছিল। আর মালিক যদি কারখানা ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে তেমন কারখানা পরিচালনার জন‍্য শ্রমিকেরা দখল করে নিতে পারবে, এমন অধিকার দিয়েছিল।
পারী কমিউনের এই স্পর্ধা মার্ক্স এঙ্গেলসকে গভীরভাবে আপ্লুত করেছিল। ওঁরা বলেছিলেন, দ‍্যাখো, ডিকটেটরশিপ অফ প্রলেতারিয়েত কাকে বলে পারী কমিউনকে দেখে শেখো।

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।