রবিবারে রবি-বার – এ মৃদুল শ্রীমানী

মৃত্যুর নিপুণ শিল্প – ৫

‘গীতাঞ্জলি’র কবিতাগুলির পরে পরে এল ‘গীতিমাল্য’, এল ‘গীতালি’।
গীতিমাল্যের ‘খড়্গ’ কবিতাটি লিখেছিলেন ১৯১২ সালের ২৫ জুন। ওখানে লিখেছিলেন
“জীবন শেষের শেষ-জাগরণ-সম ঝলসিছে মহাবেদনা–
নিমেষে দহিয়া যাহা-কিছু আছে মম তীব্র ভীষণ চেতনা…।”
‘গীতালি’ কাব্যগ্রন্থে ১৩২১ বঙ্গাব্দের ১০ জ্যৈষ্ঠ তারিখে হিমালয়ের রামগড়ে ‘আলোকধেনু’ নামে কবিতা লিখেছিলেন
” সকালবেলা দূরে দূরে উড়িয়ে ধূলি কোথায় ছোটে!
আঁধার হলে সাঁঝের সুরে ফিরিয়ে আনো আপন গোঠে….
মোর জীবনের রাখাল ওগো, ডাক দেবে কি সন্ধ্যা হলে।”
ওই বছরেই ১১ ভাদ্র তারিখে সুরুলে ‘পরশমণি’ কবিতাটি লিখলেন। ওখানে লিখেছিলেন “আঁধারের গায়ে গায়ে পরশ তব
সারা রাত ফোটাক তারা নব নব”
২৫ আশ্বিনে বেলা স্টেশনে লিখলেন,
“যাত্রাপথের আনন্দ গান যে গাহে
তারি কণ্ঠে তোমারি গান গাওয়া। ..
তুফান তারে ডাকে অকূল নীরে
যার পরাণে লাগল তোমার হাওয়া।….
বিপদ বাধা কিছুই ডরে না সে।”
৩০ আশ্বিনে এলাহাবাদে লিখলেন,
“দুঃখের পথে তোমার তূর্য বাজে,
অরুণবহ্নি জ্বালাও চিত্ত-মাঝে–
মৃত্যুর হোক লয়।”
এই যে গীতাঞ্জলি-গীতিমাল্য-গীতালি পর্ব, এই কাল পর্বের কবিতাগুলি লেখার সময়কালের মধ্যেই
বলাকার কবিতা লেখা শুরু হয়ে গিয়েছে। যেদিন গীতালির আলোকধেনু কবিতাটি লিখেছিলেন, তার দুদিন পরেই ১৩২১ সালের ১২ জ্যৈষ্ঠ তারিখে বলাকার ‘শঙ্খ’ কবিতাটি লিখেছেন। ওখানে লিখলেন,
“চলেছিলেম পূজার ঘরে সাজিয়ে ফুলের অর্ঘ্য
খুঁজি সারা দিনের পরে কোথায় শান্তি স্বর্গ।”
ওই কবিতায় যেন একটা দিনবদলের স্পষ্ট সংকেত দেন।
গীতাঞ্জলির ‘ধূলামন্দির’ কবিতায় লিখেছিলেন, “ভজন পূজন সাধন আরাধনা সমস্ত থাক পড়ে…”
লিখেছিলেন, “রাখো রে ধ্যান, থাক্ রে ফুলের ডালি…।”
একদিকে গভীর অন্তর্মুখীনতা আবার তার পাশাপাশি বাস্তব জগৎ নিয়ে সচেতনতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই সময়ের কবিতায় ফুটে ওঠে।

বলাকার ‘ছবি’ কবিতায় লেখেন,
‘বিস্মৃতির মর্মে বসি রক্তে মোর দিয়েছ যে দোলা…’। লেখেন,
“তোমারে পেয়েছি কোন্ প্রাতে,
তারপরে হারায়েছি রাতে।
তারপরে অন্ধকারে অগোচরে
তোমারেই লভি।”
‘শা-জাহান’ কবিতায় লিখলেন,
“কণ্ঠে তার কী মালা দুলায়ে
করিলে বরণ
রূপহীন মরণেরে মৃত্যুহীন অপরূপ সাজে।”
‘চঞ্চলা’ কবিতায় লিখলেন,
“তোমার চরণস্পর্শে বিশ্বধূলি
মলিনতা যায় ভুলি
পলকে পলকে–
মৃত্যু ওঠে প্রাণ হয়ে ঝলকে ঝলকে।”
আরো লিখেছেন,
” তব নৃত্যমন্দাকিনী নিত্য ঝরি ঝরি
তুলিতেছে শুচি করি
মৃত্যুস্নানে বিশ্বের জীবন।”
এভাবেই বলাকার বিভিন্ন কবিতায় জীবন আর মৃত্যুর নানা খেলা, উপলব্ধির গভীরতর বর্ণনা আমরা পেতে থাকি।
কিন্তু ১৯০৭ সালে কনিষ্ঠ পুত্র শমী ঠাকুরের মৃত্যু যেমনভাবে তাঁকে মোচড় দিয়ে গীতাঞ্জলির কবিতা লিখিয়েছিল, ঠিক যেন ওইরকমভাবে ১৯৩২ সালে দৌহিত্র নীতীন্দ্রনাথ, নীতুর মৃত্যু তাঁকে আরেক দিকে ঠেলল। লিখলেন,
“দুঃখের দিনে লেখনীকে বলি —
লজ্জা দিয়ো না।
সকলের নয় যে আঘাত
ধোরো না সবার চোখে।
ঢেকো না মুখ অন্ধকারে,
রেখো না ঘরে আগল দিয়ে।
জ্বালো সকল রঙের উজ্জ্বল বাতি,
কৃপণ হোয়ো না।” (বিশ্বশোক, পুনশ্চ।)
ওখানেই লেখেন,
“অতি বৃহৎ বিশ্ব,
অম্লান তার মহিমা,
অক্ষুব্ধ তার প্রকৃতি।….
আমার ক্ষতি আমার ব্যথা
তার সমুখে কণার কণা।”
আরো লিখলেন,
” এই ব্যথাকে আমার বলে ভুলব যখনি
তখনি সে প্রকাশ পাবে বিশ্বরূপে।…
ঢাকা পড়ুক অন্তরালে আমার আপন ব্যথা।
ক্রন্দন তার হাজার তানে মিলিয়ে দিয়ো বিশাল বিশ্বসুরে।”
নীতীন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন কবির দৌহিত্র। ছোটমেয়ে মীরা ও নগেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের পুত্রসন্তান। রবীন্দ্রনাথ ছোট জামাই নগেন্দ্রনাথকে বড় আদরে কাছে টানতে চেয়েছিলেন, যোগ্য করে তুলতে চেয়েছিলেন, সম্মানের আসন দিয়েছিলেন।

নগেন্দ্রনাথকে তিনি নিজের খরচে আমেরিকায় পাঠিয়েছিলেন দেশের কৃষকজীবনকে আধুনিক প্রযুক্তি ও আধুনিক ধ্যান ধারণার ছোঁয়ায় উন্নত ও সমৃদ্ধ জীবন দেবেন বলে। নগেন্দ্রনাথকে ব্রাহ্মসমাজে এবং বিশ্বভারতীর কাজে কর্মে বড় আসন দিয়েছিলেন বড় আশা বুকে নিয়ে। কিন্তু সে আশা তাঁর চরম নৈরাশ্যে পরিণত হয়েছিল। তাঁর ছোটমেয়ে মীরার দাম্পত্য জীবন সুখের তো ছিলই না, এমনকি, নগেন্দ্রনাথ স্ত্রীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও নিগৃহীত পর্যন্ত করতেন। মীরার শিশুসন্তানেরা নগেন্দ্রনাথের এইরূপ দেখে আতঙ্কিত হত। গুমরে গুমরে মরত। রবীন্দ্রনাথও জেনেছিলেন মীরার এই লজ্জার কাহিনী। কিন্তু মীরা কখনো বাবার কাছে কোনো অভিযোগ করতেন না।
কবির মানসিক যন্ত্রণা তাঁকে এতটাই তিক্ত কটু স্বাদ দিয়েছিল যে তিনি ভেবেছিলেন মীরার স্নানের ঘরে অনেক আগে যে একবার সাপ দেখা গিয়েছিল, সেই সাপের কামড়ে তখনই তার মৃত্যু হলে হয়ত বাপ আর মেয়েকে তিলে তিলে এই যন্ত্রণা সহ্য করতে হত না।
নগেন্দ্রনাথ ছিলেন দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং স্বার্থপর। তিনি পরিবারকে পরিত্যাগ করে ধর্মান্তর গ্রহণ করে সরে পড়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন পিতৃস্নেহহারা নীতীন্দ্রনাথের জীবনে সার্থকতা আসুক। তাকে তিনি প্রিন্টিং টেকনোলজি শিখতে জার্মানিতে পাঠিয়েছিলেন।
সেই জার্মানিতেই ১৯৩২ সালের ৭ আগস্ট তারিখে নীতীন্দ্রনাথের মৃত্যু হয়। বয়স তখনও তাঁর কুড়ি পেরোয় নি। আশ্চর্য, ১৩৩৯ বঙ্গাব্দের সেই দিনটাও ছিল বাইশে শ্রাবণ।
আগেই বলেছি বাবা-মায়ের তিক্ত সম্পর্কের মধ্যে নীতু বড় হচ্ছিল। আর সেও ছিল ছোটবেলা থেকেই শমী ঠাকুরের মতো রোগাটে ও দুর্বল স্বাস্থ্যের মানুষ। নগেন্দ্রনাথের পরিবারের দৈনন্দিন জীবন পরিচালনার খরচ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেই যোগাতে হত। অবশ্য ঠাকুর বাড়ি চিরকালই মেয়ে জামাইদের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালনে অগ্রণী ছিল। কিন্তু নগেন্দ্রনাথের আয় করার আগ্রহ না থাকলেও খরচ করার প্রবণতা ছিল অত্যন্ত রকম বেশি। তাই নিয়ে তাঁকে লেখা চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ অনুযোগও করেছিলেন। যাই হোক, নীতু বড় হতে থাকলে রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন তিনি কিছু কার্যকরী বিদ্যা শিখুন এবং অর্থোপার্জনের যোগ্যতা আয়ত্ত করুন। এই চিন্তাকাঠামো থেকে মাতামহ রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন নীতু আধুনিক প্রযুক্তির মুদ্রণবিদ্যা শিখুন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ধারণা ছিল জার্মানি আধুনিকতম মুদ্রণ প্রযুক্তি শিক্ষণের উপযুক্ত জায়গা। নীতু যাতে জার্মানি যেতে বাধা না পান, সেইজন্য তার মাকে তিনি যথেষ্ট বোঝানোর চেষ্টাও করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁদের ভরণপোষণ যোগাতে দায়বদ্ধ ছিলেন। অর্থের যোগান অক্ষুণ্ন রাখার জন্য কবিকে যথেষ্ট বেগ পেতে হত। তিনি ভেবেছিলেন তাঁর লেখা নানা বইপত্র অভিনব ভাবে মুদ্রিত হলে দেশে বিদেশে রুচিবান মানুষের কাছে আদরণীয় হবে। তখনো তো রবীন্দ্রনাথের স্বপ্নের বিশ্বভারতী কোনো সরকারি সাহায্য পেত না। তাঁর মৃত্যুর দশ বৎসর পরে ১৯৫১ সালে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় সাহায্য পেতে শুরু করে। এজন্যই তিনি ভেবেছিলেন উচ্চমানের মুদ্রণ পারিপাট্যে বই তৈরি হলে আয়ের কিছু সুরাহা হবে। এসবের কয়েক বছর আগে আমেরিকার লিঙ্কন শহরের নাগরিকেরা বিশ্বভারতীকে একটি মুদ্রণযন্ত্র উপহার দিয়েছিলেন। যন্ত্রটি শ্রীনিকেতনের গ্রাম পুনর্গঠন আশ্রমে রাখা হয়েছিল। এই সবের সূত্রেই রবীন্দ্রনাথ নীতুকে জার্মানিতে পাঠিয়ে মুদ্রণবিদ্যায় দক্ষ করে আনতে চেয়েছিলেন। ১৯৩১ সালের এপ্রিল মাসে নীতু জার্মানির উদ্দেশে যাত্রা করেন।

কবি খুব খুঁটিয়ে জার্মানির খবর রাখতেন। ওই সময় মিউনিখে নাৎসিপন্থী ছাত্রেরা দাঙ্গা বাধিয়েছিল। কবি চিঠি লিখে নাতিকে অনুরোধ করেছিলেন, সে যেন কিছুতেই এইসব গণ্ডগোলে না জড়িয়ে পড়ে। নাতি দাদামশায়কে লিখেছিল, ভায়োলিন বাজাতে তার খুব ভাল লাগছে। সে ভাল করে ভায়োলিন বাজানো শিখতে চায়। সুরসাধক রবীন্দ্রনাথ নীতুকে ওইসব যন্ত্রবাদ্যে নিরুৎসাহিত করে কাজের পড়াশুনায় মন ঢালতে বলেছিলেন। ১৯৩১ সালে ৯ সেপ্টেম্বর নীতু মিউনিখ থেকে মেইনজ যাত্রা করেছিলেন। সেখানে মুদ্রণবিদ্যার জনক গুটেনবার্গের নামে একটি সোসাইটি ছিল। বোধহয় নীতু গুটেনবার্গের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবশতঃ সেই সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাঁদের স্মারক সংকলনে একটি রচনা জমা দিয়েছিলেন। গুটেনবার্গ সোসাইটির ১৯৩২ সালের বার্ষিক সংকলনে তা মুদ্রিত হয়েছিল।
১৯৩২ সালের ১ মার্চ নীতু লাইপজিগ শহরে আকাদেমি অফ গ্রাফিকাল আর্ট অ্যাণ্ড বুক ট্রেড সংস্থা য় নিজের নাম নথিভুক্ত করেন। নীতুর শেখার বিষয় ছিল রিপ্রোগ্রাফি। এইসময় নীতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ধরা পড়েছিল তার ফুসফুসে যক্ষ্মা হয়েছে।
ব্যাধি বেড়ে চলায় নীতুর পড়াশুনা ব্যাহত হয়েছিল। তিনি তাঁর পরীক্ষা সম্পূর্ণ দিতে পারেন নি। নীতু যে মারাত্মক রকম অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন, এবং তাঁর বাঁচার সম্ভাবনা নেই, এ তথ্য কবি জেনে মর্মাহত হয়ে পড়েছিলেন।
১৯৩২ সালের ৭ আগস্ট নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে নীতুর মৃত্যু হয়। তার ঠিক আগের দিন মীরাদেবীর জন্য রবীন্দ্রনাথ একটি কবিতা লিখেছিলেন। কবিতার নাম দিয়েছিলেন ‘দুর্ভাগিনী’। এই কবিতাটি খুঁটিয়ে দেখা প্রয়োজন মনে করি।
দুর্ভাগিনী
তোমার সম্মুখে এসে, দুর্ভাগিনী, দাঁড়াই যখন
নত হয় মন।
যেন ভয় লাগে
প্রলয়ের আরম্ভেতে স্তব্ধতার আগে।
এ কী দুঃখভার,
কী বিপুল বিষাদের স্তম্ভিত নীরন্ধ্র অন্ধকার
ব্যাপ্ত করে আছে তব সমস্ত জগৎ,
তব ভূত ভবিষ্যৎ!
প্রকাণ্ড এ নিষ্ফলতা,
অভ্রভেদী ব্যথা
দাবদগ্ধ পর্বতের মতো
খররৌদ্রে রয়েছে উন্নত
লয়ে নগ্ন কালো কালো শিলাস্তূপ
ভীষণ বিরূপ।
সব সান্ত্বনার শেষে সব পথ একেবারে
মিলেছে শূন্যের অন্ধকারে ;
ফিরিছ বিশ্রামহারা ঘুরে ঘুরে,
খুঁজিছ কাছের বিশ্ব মুহূর্তে যা চলে গেল দূরে ;
খুঁজিছ বুকের ধন, সে আর তো নেই,
বুকের পাথর হল মুহূর্তেই।
চিরচেনা ছিল চোখে চোখে,
অকস্মাৎ মিলালো অপরিচিত লোকে।
দেবতা যেখানে ছিল সেথা জ্বালাইতে গেলে ধূপ,
সেখানে বিদ্রূপ।
সর্বশূন্যতার ধারে
জীবনের পোড়ো ঘরে অবরুদ্ধ দ্বারে
দাও নাড়া ;
ভিতরে কে দিবে সাড়া?
মূর্ছাতুর আঁধারের উঠিছে নিশ্বাস।
ভাঙা বিশ্বে পড়ে আছে ভেঙে – পড়া বিপুল বিশ্বাস।
তার কাছে নত হয় শির
চরম বেদনাশৈলে ঊর্ধ্বচূড় যাহার মন্দির।
মনে হয়, বেদনার মহেশ্বরী
তোমার জীবন ভরি
দুষ্করতপস্যামগ্ন, মহাবিরহিণী
মহাদুঃখে করিছেন ঋণী
চিরদয়িতরে।
তোমারে সরালো শত ফেরে
বিশ্ব হতে বৈরাগ্যের অন্তরাল।
দেশকাল
রয়েছে বাহিরে।
তুমি স্থির সীমাহীন নৈরাশ্যের তীরে
নির্বাক অপার নির্বাসনে।
অশ্রুহীন তোমার নয়নে
অবিশ্রাম প্রশ্ন জাগে যেন—
কেন, ওগো কেন!
দুর্ভাগিনী’ কবিতাটি বীথিকা কাব্যগ্রন্থে সংকলিত। লক্ষ্য করার বিষয় যে ‘দুর্ভাগিনী’ সঞ্চয়িতায় স্থান পায় নি।

নীতুর মৃত্যুতে মীরাদেবীকে কবি লিখলেন, “যে রাত্রে শমী গিয়েছিল, সে রাত্রে সমস্ত মন দিয়ে বলেছিলুম, বিরাট বিশ্বসত্তার মধ্যে তার অবাধ গতি হোক, আমার শোক তাকে একটুও পিছনে যেন না টানে। তেমনি নীতুর চলে যাওয়ার কথা শুনলুম, তখন অনেকদিন ধরে বার বার করে বলেছি, আর তো আমার কোনো কর্তব্য নেই, কেবল কামনা করতে পারি এর পরে যে বিরাটের মধ্যে তার গতি, সেখানে তার কল্যাণ হোক্। সেখানে আমাদের সেবা পৌঁছয় না, কিন্তু ভালোবাসা হয়তো বা পৌঁছয় – নইলে ভালোবাসা এখনও টিঁকে থাকে কেন?”