সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে মধুমিতা রায় (পর্ব – ১)

এই জীবন…..

মনিমালা স্কুলে যাওয়ার সময় রোজ ছেলেটাকে দেখে।কখনও হরিদার চায়ের দোকানের সামনে কখনও পুকুরঘাটে কখনও বা সাইকেল চেপে সে চলে যায় ধীরগতিতে।
একজোড়া মুগ্ধ দৃষ্টি প্রতিদিন চাদরের মত জড়িয়ে সে স্কুলে ঢোকে।তারপর রাতের গভীরে সেই চোখ আসে… কি একটা ভালোলাগা.. গানের সুরের মত, বৃষ্টিশেষের রামধনুর মত,বকুলের গন্ধের মত কোলবালিশের মত জাপ্টে ধরে কখন ঘুমিয়ে পড়ে অকাতরে!
মনিমালা চল্লিশ ছুঁই ছুঁই।একমাত্র মেয়ে ক্লাস এইট,বর ব্যাঙ্কে উচ্চপদে আছেন। সকালটা ভীষন ব্যস্ততায় কাটে। বর বেরোয় নটায়, মেয়ের স্কুলবাস আসে সাড়ে নয়ে।দুজন বেরিয়ে যাওয়ার পর মনিমালা স্নানে ঢোকে।আজকাল শাওয়ার খুললেই নিজেকে কিশোরী মনে হয়,জল টুপটুপ কিশোরী।
স্নান সেরে শাড়ি পরে আয়নায় নিজেকে দেখে তারপর যত্ন করে বড় মেরুন রঙের টিপ পরে, কানে ছোট্ট ঝুমকো।
ছেলেটার বয়স কত? ঊনিশ না কুড়ি? নাকি একুশ? এর বেশি নয়।ও কেন আমার জন্য দাঁড়াবে!রোজদিন!
আজ সে আসেনি।কেন আসেনি? আকাশ আজ মেঘলা।কিচ্ছু ভালো লাগছে না মনিমালার।ক্লাসে আজ মন বসেনি একদম।
কেন ঘুম আসছে না? কেন চোখ বুজলেই সেই চোখ? আমিও কি তবে!… মনিমালা, অঙ্কের দিদিমনি, ভাবতে থাকে, ভাবতেই থাকে।
হরিদার চায়ের দোকানের সামনে সে… মনিমালার তৃষ্ণার্ত চোখ আটকে গেল। প্রথম প্রেমের মত শিহরণ।দ্রুত হাঁটতে লাগলো মনিমালা।কপালে বিন্দু বিন্দু বসন্তের ঘাম।
দোতলার সিঁড়ি বেয়ে গুনগুন করতে করতে টপাটপ নামছিল মনিমালা।মনিমালার বর হাসিমুখে বলল… তোমার পায়ের ব্যথাটা দেখছি ভ্যানিশ! আর কতদিন পর গাইছ তুমি!
মনিমালা মিষ্টি করে হাসলো শুধু।

ক্রমশ

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।