T3 || স্বাধীনতার খোঁজে || বিশেষ সংখ্যায় মৌসুমী রায়

জ্যাঠামশায়ের ঘর

-ঝড়ু,ডাইরিটা পড় একবার।
-হ্যাঁ দাদা। সকাল সাতটা শহীদসংঘে পতাকা উত্তোলন, সাড়ে সাতটা আমরা কজন ক্লাবে পনেরোই অগাষ্টের ভাষন, আটটায় মাথাভাঙা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান,দশটা থেকে নিজের ক্লাবে শহীদবেদীতে মাল্যদান,পতাকা উত্তোলন, রক্তদান শিবির,দুপুরে আবার খাবো থ্রিস্টারে রয়্যাল বেঙ্গল ক্লাবের লাঞ্চ, সন্ধেবেলা আলোর দিশা এন জিওর হস্তশিল্প প্রদর্শণীর উদ্বোধন, রাতে নাইটক্লাবে ফিফটিন্থ অগাষ্ট ধামাকা…
– উফ্, তোদের স্বাধীনতা দিবস আমার বারোটা বাজিয়ে দেবে। দুপুরের সাধের ঘুমটি মাটি। যাক গে যাক, আমার সাদা পাজামা ,পাঞ্জাবী আর উত্তরীয় রেডি?
-একদম‌, দাদা ঐ বুলবুলি সেন ফোন করেছিল…
-আরে রাখ। এই দুদিন সব বুলবুলি চুলবুলি বন্ধ।
-আর পনেরোর বিকেলের আসল কেসটাই তো ভুলে মেরেছি।এখন মনে পড়ল।
-কি? ঐ সানরেজ টিভির ইন্টারভিউ? টপিকটা কি
বলেছে?
-স্বাধীনতা সংগ্রাম ও উত্তরাধিকার…
-এই কেলো করেছে। স্বাধীনতা সংগ্রাম! তাহলে তো আবার জ্যাঠামশাইকে টানবে। তুই এক কাজ কর। দুদিন হাতে আছে। বুড়োকে আচ্ছা করে পালিশ করে ফ্যাল।
– নরেশ নাপিতকে খবর দেব?
-হ্যাঁ। আর জ্যাঠামশায়ের ঘরটা সাফসুতরো করিয়ে দে। ধুতি ফুতি…
-দাদা, সব তো লুঙ্গি।একটাও ধুতি নেই।
-কিনে ফ্যাল কালকেই। একটা খদ্দরের ফতুয়া।
-জ্যাঠামশাই কি কিছু টের পাবেন দাদা?
-সেটাই বাঁচোয়া। না হলেতো বুড়ো আবার…
মনে থাকে যেন, কি কি পরিষ্কার করতে বললাম।
ঐ শহীদ বেদি, নেতাজীর স্ট্যাচুর মাথার কাগের গু ফু আর জ্যাঠামশাই এর ঘর…
সব যেন ঝকঝকে তকতকে দেখায়!
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।