মেহেফিল -এ- শায়রে মাসুদ পথিক

শোক
আর নেমে গেছে, শোকে অনুতপ্ত এক সিঁড়ি, নেমে গেছে
বুকের ভেতর দিয়ে যেটুকু আলপথ
যেটুকু ফসলের মাঠ
সম্ভাব্য যতো আয়রাকুপি পাখি, করছে বিচরণ
আউশ ক্ষেতের ভিতর বিরহ বিমলীন চাষার স্বপ্ন ঘেঁষে
আমি নেমে যাই প্রায়শই অভিমানে, ভোরের দিকে
ধানের চারাগুলি তখন খুব হাত নাড়ে
জড়িয়ে ধরে পা, ভিজিয়ে দেয় কোমল আলোয়
অনুভবের এই রাস্তাটুকু বহুদূর গেছে
যতোদূর একটা বিষণ্ণ হালিক যেতে পারে
মৃত মানুষের স্বপ্নের দিকে
আমি নেমে যাই সিঁড়ি বেয়ে, ক্লাশরুম হতে যেমন নেমে যায়
কোনো অবহেলিত ব্যক্য
ক্লাসের বাইরে ধ্বনি হয়ে ছড়িয়ে যাই
পাখির গানের মতো, যে গানগুলো শৈশবে বুনেছি বাতাসে
যদিও সিঁড়িটি রক্তমাখা আর সজন হারানো শোকে গড়া
তবুও প্রকৃতি ও ফসলের ক্ষেতে
চেতনার ভাষায় যায় তার অন্তর্নিহিত বেদনাকে পড়া
সো, আমি নেমে যাই চোখ বন্ধ করে
সারারাত সন্তানের জন্য কেঁদে চোখ লাল করা আয়রাকুপির তরে
খুবব করে,করি পাঠ সিঁড়ির সুগভীরে ইতিহাসের রক্তআখরে
যেখানে অক্লান্ত লাঙল ও জোয়াল বায়ুতে চাষ দেয়
বোনা হয় সকল নশ্বরতাকে
তারপর লেখা হয় সুপাঠ্য জনশ্রুতির মহাকাব্য
একা ক্লাশঘর পড়ে থাকে ধুলোর হৃদপিণ্ডে