গারো পাহাড়ের গদ্যে মনিরুজ্জামান প্রমউখ – শেষ

সব-চেয়ে বড়ো প্রশ্ন

(৩)
সরকারি অনু-দান- মুক্তিযোদ্ধা’র সম্মান । লোভী মস্তিস্ক তাতে দিয়েছে- হানা । তা- পাকিস্তানি হানাদার-দের নৃশংতা হতেও জঘণ্য। এক-জন মানুষ কতো-টা নগণ্য হলে, মিথ্যে জাল সার্টিফিকেট বানিয়ে- মুক্তিযোদ্ধা সেজে, সরকার সমেত পুরো জাতি-কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে- বছরে’র পর বছর মুক্তি-যোদ্ধা ভাতা- আত্মসাৎ করতে পারে ! বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায়- দুই লক্ষে’র মতো- মুক্তিযোদ্ধা সরকারি ভাতা পেয়ে থাকেন । তার মধ্যে স্তর-বিন্যাসে বীর-শ্রেষ্ঠ, বীর-বিক্রম, বীর-উত্তম, বীর-প্রতিক এবং সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা ক্যাটাগরি-তে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা- চালু রয়েছে । মুক্তিযোদ্ধা-দের তালিকায় যারা- ভুয়া, তারা- সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা ক্যাটাগরি-তে’ই পড়ে । প্রায়- দশ হাজার সনদ অলরেডি বাতিল করা হয়েছে । বর্তমান প্রেক্ষাপটে, প্রতি বিশ-জনে এক-জন ভুয়া ! অধিকিন্তু- বছর পুরে গুনে গুনে ছাঁকনি-তে যা- ধরা পড়বে, তার- কথা রইলো আলাদা । এই যে- অ-মানবিকতা’র উদাহরণ স্বরূপ তারা- কী শাস্তি পেতে পারে, সে-টা’ই হলো- বিবেচ্য আলোচনা’র বিষয় । সরকারি অর্থ আত্মসাৎ’- এর উপরি প্রত্যেকে’র এন্ট্রি হতে, শুরু করে- যাবতীয় কার্যক্রমে’র অনুশীলন পর- রিজেক্ট অবধি যে- সময় অপচয়, জনবল ব্যয় ও নিট ভোগান্তি’র কী সুরাহা হবে- তাও প্রশ্ন-বোধকে এসে থিতু হয় । এমন নির্লজ্জ মানুষ-গুলো-কে কি নামকরণে, আখ্যায়িত করলে- যথার্থ বলা হবে- দেশ, জাতি আর- সর্বোপরি মুক্তিযোদ্ধা-দের সম্মান অ-ক্ষুণ্ন রাখতে, সে-টা’ই সব-চেয়ে রড়ো প্রশ্ন ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।