T3 || আমি ও রবীন্দ্রনাথ || সংখ্যায় মৌসুমী নন্দী

এখন রবীন্দ্রনাথ

রবীন্দ্রনাথ এমন একজন ব্যক্তি যার ভাষায় আমরা কথা বলি যার চিন্তায় চিন্তায় আমরা চিন্তা করি,যিনি ওতপ্রোত ভাবে আমাদের জীবনের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে আছেন ৷ এক কথায় আমরা বলতে পারি আমরা রবীন্দ্রনাথরবীন্দ্রনাথেই বাঁচি ও মরি ৷ আমরা ছোটো থেকেই সেই শিক্ষাতেই শিক্ষিত হয়েছি ৷ আমাদের জীবনে এখনো রবীন্দ্রনাথ নিঃশ্বাসের মতই ,প্রতিনিয়ত অনুভব করি ৷ একটা সময় ছিল যখন স্কুল কলেজ গুলোর একটা বড়ো ভূমিকা ছিল রবীন্দ্র চর্চা ,বরীন্দ্র জ্ঞান ছাত্রছাত্রী ও অশিক্ষিত লোকেদের মধ্যেও পৌঁছে দিত রবীন্দ্র জয়ন্তী , বাইশে শ্রারণ ইত্যাদি পালনের মাধ্যমে ৷ দেশে বিদেশে বাঙালী খ্যাত ছিল রবীন্দ্রনাথকেই অবলম্বন করে ৷ কিন্তু সত্যি বলতে কি বর্তমানে বাঙালীর জীবনে রবীন্দ্রনাথের কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই ৷ কথা শুনে কেউ কেউ হয়তো বা রে রে করে আমায় তেড়ে আসবেন ৷ এত কিছু থাকতে হঠাৎ রবীন্দ্রনাথের প্রাসঙ্গিকতা তুললাম কেনো ! বর্তমানকালে যুব ও ছাত্র সমাজ ডিজিটালের যুগের বদ্যনতায় রবীন্দ্রনাথ থেকে অনেকটায় দুরে সরে গেছে ৷ প্রকৃত তথ্য ও জ্ঞানের উপলব্ধির অভাব ঘটছে ৷ চারদিকে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যেরকম মিম তৈরী করা হচ্ছে ,প্যারোডি হচ্ছে সেই কারনেরই প্রশ্নটা তুলতে ইচ্ছা করছে ৷ বর্তমান সময়ের যাপিত জীবনে রবীন্দ্রনাথের প্রাসঙ্গিকতা কতটুকুন ! কারণ কিছু দিন আগেই সোস্যাল মিডিয়াতে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে প্যারেডিগান আর কপি রাইট উঠে যাওয়ার চূড়ান্ত রূপ ফেইসবুক আমাদের দেখিয়েছে ৷ স্কুল- কলেজের পাঠ্য বইতেও যতটুকুন রবীন্দ্রনাথ এতদিন ছিলেন বর্তমানে তাও তলানীতে ৷ আমাদের বর্তমান যে জীবনচর্চা সেখানেও রবীন্দ্রনাথের দরকার পড়ে না বহু দিন হলো৷ তবে এখানে একটি অসত্য আছে অশ্বথমা হত ইতি গজর মতো ৷ এখনো চাকরীর পরীক্ষায় প্রশ্নের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ দরকার পরে , চায়ের দোকানে তুমুল তর্কবিতর্কে রবীন্দ্রনাথ দরকার পড়ে ৷ তাহলে তো এই প্রশ্নটা এসে যেতেই পারে যখন চাকরী পরীক্ষায় রবীন্দ্রনাথ দরকার পড়ে তাহলে অন্যকোথাও প্রয়োজন আছে কিনা সে প্রশ্ন অবান্তর ৷ কিন্তু একটু মনে করে দেখুন তো এইসময় কোনো অভিভাবক বা শিক্ষক বর্তমান যুগে ভালো ফল করার জন্য তার সন্তানকে বা ছাত্রছাত্রীদের রবীন্দ্রনাথের বই উপহার দিচ্ছেন এমন হয়েছে ৷ আজকাল পুরস্কার স্বরূপ কেউ গীতবিতান বা সঞ্চয়িতা উপহার দেন না ৷ স্কুল কলেজের পাঠ্যবইতে যতটুকুন রবীন্দ্রনাথ আছেন পারলে কৃর্তপক্ষ ততটুকুনও বাদ দিতেন ৷ দিতে পারছেন না কারণ হলো রবীন্দ্রনাথ হলেও সেই ব্যক্তি যিনি জাতীয় সঙ্গীত সঙ্গীতস্রষ্টা ,প্রথম কোনো অ-ইউরোপীয় তারউপরে বাঙালী যিনি নোবেল পেয়েছিলেন , তাকে পাঠ্যতালিকা থেকে বাদ দিলে বাঙালীর আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না ৷ তাই ওইটুকু ই সাবেকী আনা রেখে দেওয়া ৷ ওই পাঠ্যবইতে রবীন্দ্রনাথ সমন্ধে যা কিছু আছে সেটা পড়ে রবীন্দ্রনাথ আসলে কি সেই সম্পর্কে কোনো সম্যক ধারনায় আসে না ৷ অবশ্য এটা শুধুমাত্র আমার মত ৷ আমাদের প্রতিনিয়ত যাপিতজীবনের সাথেও রবীন্দ্রনাথের প্রজ্ঞার কোনো সম্পর্ক নেই ৷ আমরা তাঁর সমন্ধে পড়াশোনাও ছেড়ে দিয়েছি প্রায় বহুদিন হলো ৷ তবে আমরা একেবারেই আজকাল কিছুই পড়ি না তাও নয় ৷ আমরা পড়ি প্রতিনিয়ত মোবাইলে, নিউজপেপারে, বিভিন্ন অনলাইনে শেয়ার করা নিউজ পোর্টালে ,ফেসবুকে ৷ পড়ি বিভিন্ন নোংরা চুটকি, শেয়ার ওঠা নামার খবর , কেচ্ছা কেলেঙ্কারী সত্যমিথ্যা যাচাই না করেই , দেখি মিম৷ তারমধ্যে কোনোটার সাথেই রবীন্দ্রনাথের প্রজ্ঞার কোনো সম্পর্ক আছে ? বাঙালীর কাছে এখন কখন রবীন্দ্রনাথকে দরকার পড়ে ? পয়লা বৈশাখ , রবীন্দ্র জন্ম -মৃত্যু বার্ষিকীতে ৷ তখন আবার রবীন্দ্রনাথকে হুল্লোড় পড়ে যায়৷ যারা রবীন্দ্রনাথ পড়েন না যারা হয়তো দিনটা মনে রাখেন না তারাও আদিখ্যেতার ফেইসবুকে পোস্ট দেবেন ৷ আমার মতো তারাও হয়তো কোনো গণমাধ্যমক একটা পোস্ট করেই দায়িত্ব শেষ করবেন ৷ বর্তমান যুগে ফেইসবুক আছে ৷ যা ইচ্ছা তাই খুশি করা যায় ৷ শুধু বলছি বুকের পাটা থাকলে রবীন্দ্রনাথের গানকে বিকৃত না করে একটু বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পবিত্রগানের একটু রিমিক্স বানিয়ে দেখান তো ৷ তারপরে বাকীটা ইতিহাস হয়ে থাকবে ৷ এই জায়গায় গণমাধ্যমেরও একটা বিশাল ভূমিকা আছে ৷ যদি কেউ একজন ফেইসবুক বা ইউটিউবে যাচ্ছেতাই ভাবে কোনো রবীন্দ্র সংগীত কে রিমিক্স করে ভিউ পেয়ে যায় ,তবে তো হয়ে গেলো ! তাকে নিয়ে শুরু হয়ে গেলো মাতামাতি ৷ ফেইসবুক লাইভ, সাক্ষাৎকার প্রচার করে একেবারে ধামাল কান্ড৷ আর কেনই বা করবে না এরা ! যেসব গণ মাধ্যম এটা করছে তাদের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা কতজনই বা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে নূন্যতম পড়াশোনা করেছেন বা রবীন্দ্রনাথকে গভীরভাবে জেনেছেন ! এবার আসি উল্টোদিকের শ্রোতাদের কথায় ৷ শ্রোতাদেরও শিক্ষিত হতে হয় ৷ আদিখ্যেতা করে রবীন্দ্র সংগীতের বিকৃত সুরকে না শুনলেও হয় ৷ শ্রোতাদের শিক্ষিত হবার কথা স্বয়ং রবীন্দ্রনাথই বলে গেছেন ৷ রবীন্দ্রনাথের লেখা বা তাকে নিয়ে লেখা অন্যকারো লেখার পাঠক এখন খুবই কম ৷ তাইবলে কি রবীন্দ্রনাথের যথার্থ চর্চ্চা এখন হয় না ?? অবশ্যই হয় ৷ তবে কিছু সীমিত লোকই করে থাকেন ৷ সেটা শতাংশের হিসাবে কত?? প্রশ্নটা থেকেই যায় ৷ যে মধ্যবিত্ত বাঙালীর একটা বড়ো অংশ একসময় প্রতিনিয়ত প্রতিদিন কিছু না হোক রবীন্দ্রনাথের গান শুনতেন বা কোনো অনুষ্ঠানে দুটো কবিতা আবৃত্তি করতেন তারা এখন কোথায় ! ঘরোয়া অনুষ্ঠান গুলো তে রবীন্দ্রনাথই বেঁচে ছিলেন ৷এখন মধ্যবিত্তও হারিয়ে গেছে ডিজের তালে ৷ আজকের রবীন্দ্রনাথের চর্চ্চায় মধবিত্ত্যের অবস্থান কোথায় ! তবুও রবীন্দ্রনাথ আছেন থাকবেন ৷ এই প্রসঙ্গে বলি কবি শঙ্খ ঘোষের আবাসে বিদেশ থেকে আসা বেশ কিছু বন্ধুর মধ্যে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল তার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ৷ তাদের মধ্যেই কেউ কেউ বলেছিলেন – রবীন্দ্রনাথে আমি কিছু পাই নি , আবার কেউ বলেছেন আমি রবীন্দ্রনাথ পড়িনি কিন্তু সেই সন্ধ্যাতেই গানের প্রসঙ্গ আসতেই রবীন্দ্রনাথ সহজেই সেখানে স্হান করে নিয়েছিলেন ৷

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।