গদ্যের পোডিয়ামে মালা মিত্র

বৃষ্টি
বৃষ্টি একদিকে যেমন ভেতর বাড়ি জুড়ানো তরল সুধা,আবার বৃষ্টিকে কখনো অপরূপ সৃষ্টি বলি।অপরদিকে অনাসৃষ্টি ও বলি কখনো কখনো।
প্রচন্ড দাবদাহে ধরিত্রি যখন জ্বলে পুড়ে ছাড়খার
হতে বসে,তখন এক পশলা বৃষ্টি দেহে মনে এনে দেয় এক অনাবিল শান্তির পরশ।
‘ওগো বৃষ্টি আমার চোখের পাতা ছুঁয়োনা,
আমার এত সাধের কান্নার দাগ ধুয়ো না’।
বৃষ্টি চাইছেন না বিরহীনি,তার প্রেমিক যেন এসে দেখেন তার প্রেয়সী তার জন্য কত কেঁদেছেন।
‘ও পাড়েতে বৃষ্টি এল ঝাপসা গাছপালা,
এ পাড়েতে মেঘের মাথায় একশ মানিক জ্বালা,
বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে ছেলেবেলার গান,
বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এল বান’
বৃষ্টি দিনে এমন চমৎকার ছবি আঁকতে পারেন শুধু কবিই।
ছেলেবেলায় উপুঝুপু ভিজে,স্কুলে গিয়ে রেনি ডে র খুশির অভিজ্ঞতা হয়নি এমন বোধ হয় কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
বৃষ্টি জলে কাগজের নৌকো ভাসানোর অভিজ্ঞতা কি ভোলা যায়?
কবি মন টাপুর টুপুর শব্দে নেচে ওঠে,’ঘন জটার ঘটা ঘনায় আঁধার আকাশ মাঝে,
পাতায় পাতায় টুপুর টুপুর নূপুর মধুর বাজে’।
কবি হৃদয় গেয়ে ওঠে,’ওই যে ঝড়ের মেঘের কোলে
বৃষ্টি আসে মুক্তকেশে আঁচল খানি দোলে’।
তাই তো কবি নজরুলের সাথে আমরাও গাই-‘আজি এ শ্রাবণ নিশি কাটে কেমনে,গুরু দেয়া গর্জন,কাপে হিয়া ঘনঘন,শনশন কাঁদে বায়ু নীপ আঙনে’।
এই বৃষ্টি ছাড়া মানুষ বাঁচে না,চাষ আবাদ হয় না,শষ্য শ্যামল হয় না ধরা।শুখার কবলে দেশ পড়ে,সে এক ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা।
আবার বৃষ্টি যদি মাত্রাতিরুক্ত হয়,তবে জন জীবন বিরাট বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।অতি বৃষ্টি বন্যা আনে।
তবে মানানসই বৃষ্টি কিন্তু জীবকূল খুবই উপভোগ করে।
বর্ষা কবিদের সৃষ্টি করার ক্ষমতা অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়।
‘ঝরঝর মুখর বাদল দিনে,জানিনে জানিনে কিছুতে কেন যে মন লাগে না’।বৃষ্টিতে বিরহ বারে।
কবি লেখেন,’এসেছে বরষা এসছে নবীনা বরষা,গগন ভরিয়া এসেছে ভূবনভরসা।
আমার নাগাড়ে বৃষ্টিতে শ্রীরাধিকা যখন যখন তার প্রাণপূরুষ শ্রী কৃষ্ণের কাছে যেতে উদ্যত হন,সখীরা বলেন,’গহন রয়ন মে ন যায়ো বালা নওল কিশোরক পাশ,গরজে গনঘন বহু ডর পাওব,কহে ভানু তব দাস।
তাই বৃষ্টি অবশ্যই আসুক নতুন সৃষ্টি নিয়ে,আমরাও তার আগমনে আনন্দে মেতে উঠি আর কামনা করি তার সংযত রূপ।অতিবৃষ্টির করাল গ্রাসে যেন আমরা না পড়ি।
কবির সঙ্গে সুর মিলিয়ে আমরাও গাই,’বহু যুগের ওপার হতে আষাঢ় এল,এল আমার মনে,
কোন সে কবির ছন্দ বাজে ঝরো ঝরো বরিষণে’।