গদ্যানুশীলনে মিঠুন মুখার্জী

সাহস সফলতার চাবিকাঠি

বসন্ত উৎসবের সকাল। শ্যাম ঘুম থেকে উঠে নতুন বউকে বললেন— “আজ বসন্ত উৎসবে মেতে উঠবে আমাদের সমগ্ৰ গ্ৰাম, তুমিও কি সকলের সঙ্গে যোগ দেবে?” নতুন বউ বললেন — ” আমি রঙ খেলি না । আমার রঙে এলার্জি আছে । আমি যখন সপ্তম শ্রেণীতে পড়ি সেই বছর রঙ খেলে আমার অবস্থা খুবই খারাপ হয়েছিল। ডাক্তার রক্ত টেস্ট করিয়ে বলেছিলেন, ‘তোমার রঙে – এলার্জি আছে। চেষ্টা করবে রঙ না খেলার।’ সেই থেকে আমি রঙ খেলি নি।” শ্যাম শিখার সমস্যা ঠিক বুঝতে পেরে কিছু বলেন না। বাইরে যখন সকলে রঙ খেলায় মত্ত তখন শিখা চুপচাপ ঘরে বসে সকলের খেলা দেখেন। ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই তার। হঠাৎ শ্যামের বড়দার পাঁচ বছরের ছেলে আকাশ এসে কাকিমনির হাত ধরে না চাইতেও টেনে নিয়ে যায় বাইরে। না জেনে বড় জা শিখার দুই গালে রঙ মাখিয়ে দেন। আকাশও কাকিমনির মুখে ও পায়ে রঙ দিয়ে প্রনাম করে। ওইটুকু বাচ্চার মধ্যে এই বোধ দেখে নতুন বউয়েরও ইচ্ছে হয় রঙ খেলার। আকাশের কাছ থেকে আবির নিয়ে শিখা শ্বশুর, শাশুড়ি, ভাসুর ও বড় জার পায়ে দিয়ে প্রনাম করেন। সবাই তাকে আশীর্বাদ করেন। শিখার খুব ভালো লাগে। সে বুঝতে পারেন আজ রঙ না খেললে এই আশীর্বাদ পাওয়ার ঝুলিও শূন্য থেকে যেত। তার এলার্জিও ওঠে না। তিনি বুঝতে পারেন আমাদের মনের ভয় থেকে আমরা অনেকসময় পিছিয়ে যাই। তাই সাহস করে এগোতে হয়। তবেই সফলতা আসে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।