কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে মুতাকাব্বির মাসুদ

মনের ঘরে হলুদ রোগ
কপোলে কতো সোহাগ দিলাম
রোজ বিহানে চুম্বনে
পাখি তবু চেয়ে থাকে
রঙ করা সেই দালানে
পীবরী সন্ধ্যায় ঘরে ফিরি
ল্যামের আলোয় দেখি মুখ
দিনের শেষে কষ্ট-ঘেমে
ঘর ফেরার এক স্বপ্নসুখ
ছন বাঁশের ঘর বানালাম
সুখের একখান চৌকি
ভালোবাসার উম দিলাম
পাখি দিলো ফাঁকি
ওরে আমার উদাসী পাখি!
ঘরে বন্দি, প্রেমে বন্দি
বন্দি বিলাসী সুখে
রতি কলায় বেহুঁশ পাখি
অধুনা কাব্য কলার ঘরে
পায়ে পায়েল
নাকে নোলক
লাল করবির ঠোঁট
চন্দ্রাবলী ঘোমটা খুলে
ঝামটা মারে রোজ
তাঁতের শাড়ি ভেজা গায়ে
প্রণয় খুঁজে চিত্ত দাহে
উদাস পাখি সুখ খুঁজে
চোখ ছল ছল চোখ বুজে
ওরে আমার আঁধলা পাখি!
সোনা দিলাম রুপা দিলাম
কলজের ভেতর ঘর দিলাম
রুধির বুকে যত্ন করে
ঘরে তুললাম কারে?
ঐ সেদিন প্রথম যেদিন
তুলে আনি ঘরে
রাতের আঁধার চুরি করে
রূপের ভাঁজে রাখে
সারা ঘর আলো করে
চুপি চুপি ডাকে
কী যে জ্বালা মন কালা
পাখির চনচন বুকে
ওরে আমার আদুরি পাখি!
ঘর দিলাম দোর দিলাম
দিলাম সুখের রাখি
ভালোবাসায় মরেই গেছি
দাহ শুধু বাকি
ওরে আমার চনমন পাখি!
ক্লান্ত দেহে
দিবসের শেষে
মহাকালের ব্রাত্য চোখে
চেয়ে দেখি –
বুক তাঁর হিমাগার
নন্দ সুখের হাহাকার
সুতো ছেড়া ভালোবাসার
মন তাঁর পুষ্পশূন্য গোলজার
চোখ তাঁর জলাধার অন্ধকার!
অতঃপর ;
সুখের ঘরে চপল পাখি
অসুখ আনে ডেকে
মনের ঘরে হলুদ রোগ
ক্যামনে বুঝাই তাঁকে
এখন আমার
শূন্য ঘরে বৃত্ত দেয়া
মৃত্যুর ছায়া ঘরে
নিত্য তাঁর-ই আসা-যাওয়া
অন্তর কেঁদে মরে।